বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন শ্রমিক ও অপরজন ট্রাকের চালকের সহকারী (হেলপার)। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কাহালু উপজেলায় এবং আজ বুধবার সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় একজন ট্রাকচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের ভ্যাপরা এলাকায় নিউ হোপ ফিড মিলের সামনে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন শ্রমিক রবিউল আউয়াল ওরফে জিয়া (৪২)। তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার তরত বাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। রবিউল কাহালুর ওই ফিড মিলে শ্রমিকের কাজ করতেন এবং কারখানার ভেতরেই থাকতেন। রাতে কারখানায় কাজ শেষ করে রাস্তা পার হচ্ছিলেন রবিউল। এ সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি পালিয়ে যাওয়ায় সেটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। লাশের সুরতহাল শেষে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
অপর দিকে সকাল সোয়া ৬টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের নন্দীগ্রাম পৌরসভার ফোকপাল রাস্তায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় আরেকটি ট্রাকের চালকের সহকারী ইনজামাম (২০) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ট্রাকচালক শামীম শেখ (৩৫)।
নিহত ইনজামাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খড়াশনি গ্রামের ইজ্জত আলীর ছেলে। আহত শামীম শেখ একই উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামের আরব আলী শেখের ছেলে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সকাল সোয়া ৬টার দিকে বগুড়ার দিক থেকে ছেড়ে আসা বালুভর্তি একটি ট্রাক নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। পথে নন্দীগ্রামের ফোকপাল রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে চলন্ত ট্রাকটি ধাক্কা দেয়। এতে চলন্ত ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। চালক শামীম ও সহকারী ইনজামাম কেবিনের ভেতর আটকা পড়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ইনজামামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত চালক শামীম শেখ ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নন্দীগ্রামের কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুটি উদ্ধার করেছে। নিহত ইনজামামের লাশ শজিমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।