জমি বিক্রির টাকা চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় রিতা রানী মজুমদার (৫০) নামের এক নারীর গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা গ্রামে গত বুধবার (২০ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গতকাল রোববার (২৪ মে) রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মমিনহাটা গ্রামের শাওন মিয়া (২০) ও একই এলাকার আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তাঁরা দুজনই পেশায় দিনমজুর।
আজ সোমবার (২৫ মে) বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার আনোয়ার ও শাওন একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতেন। কিছুদিন আগে আনোয়ার জানতে পারেন, বিধান মজুমদারের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা আছে। এরপর দুজন মিলে টাকা চুরির পরিকল্পনা করেন। আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে দুটি হাঁসুয়া কিনে আনেন। ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তাঁর স্বামী বাড়ির বাইরে ধান ও খড় তোলার কাজে যান। তখন অভিযুক্ত দুজন বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত সোয়া ১২টার দিকে শাওন দরজায় ধাক্কা দেন। শব্দ পেয়ে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হলে তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। তখন আনোয়ার তাঁর হাতে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে রিতার গলায় কোপ দেন। পরে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে চুরি না করে দ্রুত পালিয়ে যান। পাশের রুম থেকে গোঙানির শব্দ শুনে বিধান মজুমদার বের হয়ে ঘরের মেঝেতে স্ত্রীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর গাবতলী থানা-পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে শাওন মিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আনোয়ার হোসেনের নাম জানান। পরে পুলিশ আনোয়ারকেও গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ব্যবহৃত দুটি হাঁসুয়া লুকিয়ে রাখেন। পরে সেগুলো বয়ারবাড়ী বিলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।
গতকাল রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাঁসুয়া উদ্ধার করে। আসামিদের কাছ থেকে হত্যার সময় পরিহিত পোশাক, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আজ বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।