ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কুতুবগঞ্জ মাজিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার কম্পিউটার শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে তোয়াক্কা না করে ছুটির দিনে বেঞ্চ ও টেবিল বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শাখার প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নূর নবীকে তদন্তের দায়িত্ব দেন ইউএনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ওই কর্মকর্তা মাদ্রাসায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে তোয়াক্কা না করে ছুটির দিনে টেবিল, চেয়ার ও হাই বেঞ্চ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বিধিবিধান না মেনে সুপার ও অফিস সহকারীর অফিস কক্ষ নিচতলায় এবং শিক্ষকদের অফিস কক্ষ দোতলায় করায় মাদ্রাসা পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর ও লাইব্রেরিয়ান মো. মহিবুল দাবি করেন, টেবিল ও হাই বেঞ্চ বিক্রির জন্য মাদ্রাসার সুপার মাহাবুবা আক্তার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন সহসুপার মাওলানা জামাল উদ্দিন। তাঁরা দুজনও ওই কমিটির সদস্য ছিলেন।
লাইব্রেরিয়ান মহিবুল বলেন, ‘৩৪টি হাই বেঞ্চ ১০০৫ টাকা করে এবং চারটি টেবিল ৭০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। এগুলো বিক্রির জন্য কমিটি করা হয়েছিল। এর বাইরে আমরা কিছুই জানি না।’
তবে কমিটির প্রধান ও সহসুপার মাওলানা জামাল উদ্দিন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আমি কমিটির প্রধান হলেও ওই দুই শিক্ষক আমাকে না জানিয়েই ছুটির দিনে হাই বেঞ্চ ও টেবিলগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন।’
মাদ্রাসার সুপার মাহাবুবা আক্তার জানান, তিনি মানসিকভাবে ভালো না থাকায় টেবিল ও হাই বেঞ্চ বিক্রির বিষয়টি সহসুপারসহ শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নূর নবী বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।