ভোলার চরফ্যাশনে শ্রমিক সংঘর্ষের জেরে আঞ্চলিক মহাসড়কে পাঁচ ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ ছিল। যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আকস্মিক এই ধর্মঘটে জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চলাচল শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে চরফ্যাশন সরকারি টাফনাল বারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাস ও অটোরিকশার শ্রমিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে বাসশ্রমিকেরা ভোলা সদরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক থেকে বাস সরানো হলেও শ্রমিকেরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটে ও বাসস্ট্যান্ডে আটকা পড়েন কয়েক শ যাত্রী। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ এবং কিছুদিন পরপর এভাবে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার শ্রমিকদের সংঘর্ষের জেরে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ যাত্রীরা।
এ বিষয়ে ভোলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মন্নান জানান, তাঁদের বাসশ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভোলা-চরফ্যাশন রুটের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার শ্রমিকদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
আব্দুল মন্নান বলেন, ‘কয়েক দিন পরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশার শ্রমিকেরা কারণে-অকারণে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে।’ এর সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান তিনি।
তবে, জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বলেন, বিষয়টি নিয়ে মোটামুটি সমাধান হয়েছে। এখন বাস চলাচল শুরু হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাসশ্রমিক ও বাস মালিক সমিতির কমিটির সমঝোতা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চলাচল ফের শুরু হয়েছে।