বরিশালে আদালত বর্জনের কর্মসূচি স্থগিত করেছে আইনজীবী সমিতি। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে ১ মার্চ থেকে আদালতের কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্যা মো. রিয়াজ হোসেন।
জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাড. মহসিন মন্টু বলেন, আইনজীবীরা বসে আদালত বর্জন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উদ্ভূত ঘটনায় আইনজীবী সমিতির সভাপতির গ্রেপ্তার হওয়া, মামলা দায়েরসহ অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে বিচারকদের সঙ্গে আইনজীবীদের সম্পর্ক শান্তিপূর্ণভাবে কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইতিমধ্যে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সঙ্গে একধরনের কথা হয়েছে। সব পক্ষের রাগ-ক্ষোভ দূর করতে কোনোভাবে তো সমঝোতা করতে হবেই। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আরও শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. জয়নুল আবেদিন প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। আইনজীবীদের নীতিনির্ধারকেরা ঢাকা থেকে এ সমঝোতা করেছেন। এর ফলে তাঁরা আদালত বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন আর সভাপতি লিংকনের জামিন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আইনজীবীরা বিচারকদের সহায়ক। বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে যাতে দূরত্ব না থাকে, সে লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তাঁকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা গত মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। বেলা ২টার দিকে তাঁরা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করে বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এর নেতৃত্ব দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকন। ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হামলার ঘটনার পরদিন বুধবার ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করেন মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। ওই দিনই আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. লিংকনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় অস্থির হয়ে ওঠে আদালত অঙ্গন।