হোম > সারা দেশ > বরিশাল

বরিশাল বিএম কলেজ: সেশন ফির নামে ‘অযৌক্তিক’ অর্থ আদায় বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল বিএম কলেজে কার্যক্রম না থাকা খাতের সেশন ফি আদায় বন্ধের দাবিতে আজ রোববার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-মিছিল করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঐতিহ্যবাহী বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে কার্যক্রম না থাকা খাতের সেশন ফি আদায় বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ১৯টি খাতে সেশন ফি বাবদ ২ হাজার ৬২০ টাকা আদায়ের নোটিশ দেওয়ার পর তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব খাতের মধ্যে ১০টিরই কোনো কার্যক্রম নেই। তবু শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে অযৌক্তিক ফির বোঝা চাপানো হচ্ছে।

আজ রোববার (৩ মে) কার্যক্রম না থাকা এসব খাতের ফি আদায় বন্ধের দাবিতে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা সেশন ফি বাবদ আদায় করা অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনারও দাবি জানান। এদিকে সেশন ফির অযৌক্তিক চাপ নিরসনের দাবিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, গত ২২ এপ্রিল বিএম কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সেশন চার্জ বাবদ ২ হাজার ৬২০ টাকা ধার্য করে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশ জারি করা হয়। এতে ১৯টি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়। কলেজটিতে দ্বিতীয় বর্ষে বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যেসব শিক্ষার্থী সেশন ফি দিতে ব্যর্থ হবেন, শ্রেণিকক্ষে তাঁদের হাজিরা ডাকা হবে না। এ ছাড়া তাঁরা ইনকোর্স পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারবেন না। ইনকোর্স পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর দেওয়া হবে না।

ফি দিতে ব্যর্থ হলে হাজিরা না ডাকা ও পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক শ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজ প্রশাসন নোটিশ জারি করে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের হুমকি দিতে পারে না। কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ‘সেশন চার্জের নামে অর্থ নিলেও প্রতিটি খাতে আমাদের পর্যাপ্ত সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়া হয় না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথম বর্ষে ভর্তির সময়ে সব ফি পরিশোধ করেছি। এখন অনেকে কলেজ পরিবর্তন করবে; কিংবা কেউ কেউ উত্তীর্ণ হবে না, তাহলে আগেভাগে কেন আমরা সেশন চার্জ দেব। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অযৌক্তিক খাতে অর্থ নেওয়া বন্ধ করতে হবে।’

বরিশাল বিএম কলেজে কার্যক্রম না থাকা খাতের সেশন ফি আদায় বন্ধের দাবিতে আজ রোববার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-মিছিল করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

কলেজের প্রশাসনিক শাখা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেশন ফি আদায়ের নোটিশে ১৯টি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি খাতের কোনো কার্যক্রম নেই, কয়েকটি থাকলেও তা খুবই সামান্য। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা (বহিরাঙ্গন) বাবদ ৫০ টাকা, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ও কমনরুম ৪০ টাকা, ম্যাগাজিন ৩০ টাকা, গ্রন্থাগার ৫০ টাকা, পরিবহন ৫৬০ টাকা, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ২০ টাকা, অত্যাবশ্যকীয় খরচ ৬৮০ টাকা, চিকিৎসাসেবা ২০ টাকা, ব্যবস্থাপনা ফি ৫০ টাকা এবং বিবিধ ১০০ টাকা। সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬২০ টাকার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ টাকাই অযৌক্তিকভাবে আদায় করা হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে কোনো খেলাধুলা হচ্ছে না অনেক বছর ধরে। ১০ বছর ধরে ম্যাগাজিনও বের হয় না। গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া যায় না। চাপিয়ে দেওয়া সবচেয়ে অযৌক্তিক ফি নেওয়া হয়ে পরিবহন খাতে—৫৬০ টাকা। কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, কলেজের ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ ভাগ শিক্ষার্থী পরিবহনসেবা পান।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আইসিটি সুবিধা নেই বললেই চলে। ৬৮০ টাকা অত্যাবশ্যকীয় খরচের নামে কলেজের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন তোলা হয় ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে। প্রতিবছর চিকিৎসা খাতের ফি আদায় করা হলেও সেবা পাওয়া যায় না। একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি নিয়মিত আসেন না। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা ফি ও বিবিধ খাতের নামে প্রায় ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে সেশন ফি আদায় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিরসনের দাবিতে ক্যাম্পাসে ছাত্র সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। দুপুরে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিএম কলেজ শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সুজয় সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ণব রায়। তাঁরা বলেন, সেশন ফির পূর্ণাঙ্গ রসিদে যে টাকার অঙ্ক দেখা যাচ্ছে, তার স্বচ্ছতা নেই।

এ ছাড়া ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, সেশন ফির নামে অযৌক্তিক চাপ ও প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা নিরসন করতে হবে। এ লক্ষ্যে ছাত্রদল বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষকে ছয়টি প্রস্তাবও দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বরিশাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের পরিপত্র অনুযায়ী সেশন ফি নেওয়া হয়ে থাকে। ছাত্র সংসদসহ যেসব খাতে কার্যক্রম নেই, ২৫ সালের পর থেকে সেসব খাতে কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে না।

বিভিন্ন খাতের কোনো কার্যক্রম না থাকার অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক শেখ তাজুল ইসলাম বলেন, সারা বছরই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা চলছে। তবে এটা ঠিক, পরিবহন সুবিধা সবাই পান না। তারপরও দিতে হয়। এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় খাতে আদায় করা অর্থ দিয়ে কর্মচারীদের সম্মানী দেওয়া ও কলেজের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে আইনি মোকাবিলা করতে হয়।

গৌরনদীতে মহিসখোলা বিলে অবৈধ বাঁধ অপসারণ, কৃষকের স্বস্তি

ঝড়ে মেঘনায় নৌকাডুবি: এখনো সন্ধান মেলেনি ২ জেলের

বিসিসিতে জলাবদ্ধতা: কোটি টাকায় দূর হয়নি দুর্ভোগ

৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

কলাপাড়ায় নারী পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

বেদে শিশুদের শিক্ষার আলো দেখাচ্ছেন দুই বোন, খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

মুলাদীতে জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, জামায়াত নেতাসহ আহত ৩

বরিশালে আ.লীগ নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিল

ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ৮ দিন পরে মামলা

আগৈলঝাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা