বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা আবু হানিফ গাজী হত্যার আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ সময়েও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম আজ শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, তাঁরা রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবু হানিফ গাজী (৪০) বরিশালের মুলাদী উপজেলার চর নাজিরপুর ইউনিয়নের শেখবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সুলতানগঞ্জ বিবির বাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন বাসায় টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে কিছু সময়ের মধ্যে বাসায় ফিরে আসবেন বলে বের হন আবু হানিফ। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বারবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার ফোন করলে এক পুলিশ কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করে জানান, তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি জঙ্গলে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য দেন ওই কর্মকর্তা।
ঘটনার ৯ দিন পর ৬ অক্টোবর আবু হানিফের মা মঞ্জিলা খাতুন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি সাভার থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (উত্তর)।
নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, ‘স্বামী হত্যার আট মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। কোনো আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে আমরা বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’
সুমি আক্তার আরও বলেন, ‘ঘটনার পর কিছুদিন ঢাকায় অবস্থান করলেও আর্থিক সংকটের কারণে আমাদের গ্রামে ফিরে আসত হয়েছে। গ্রামে থাকার কারণে নিয়মিত মামলার খোঁজখবর নিতে পারি না। আমার আশঙ্কা, এ কারণেই তদন্তে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না এবং রহস্য উদ্ঘাটনেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর থেকেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি নেই। তবে এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।’