ঝালকাঠি-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক বলেছেন, বিড়ি খাওয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, ওই বক্তব্যের কারণে জামায়াতের ভোট বরং দুই কোটি বেড়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘আমি বলেছি, যারা বিড়ি খেয়ে চায়ের দোকানে যায়, আমাদের কর্মীরা তাদের চা খাওয়ার সময় কিংবা বিড়ি খাওয়ার সময়ও জামায়াতে ইসলামের দাওয়াত দেবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ চাইলে বিড়ি খাওয়ার সংস্কৃতি থেকে মানুষকে বের করে ভালো পথে আনতে পারেন। জান্নাত-জাহান্নাম আল্লাহই বানিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের বিড়ি বিক্রেতা, দাড়ি না রাখা মানুষ কিংবা সাধারণ মানুষ—তারা কি আমাদের ভোট দেবে না? ইসলাম সবার জন্য। আমার বক্তব্যকে মিসলিড করে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে এই বক্তব্য আমাদের জন্য দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ মার্কেটিং হয়ে গেছে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি গিফট।’
এ সময় তিনি ফেসবুক ব্যবহারে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা যা করি, যা বলি—সবই ভাইরাল হয়ে যায়। তাই নিজেদের মধ্যে ভুল হলে ঘরে বসেই সংশোধন করব। ফেসবুক বা রাস্তাঘাটে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বন্ধুর বিরুদ্ধে কিছু বলব না।’
ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম এ দেশে একটি স্মার্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে দেখাবে ইনশা আল্লাহ। কাঁঠালিয়ার মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। আমাদের ১০ দলীয় জোটকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না ইনশা আল্লাহ। কাঁঠালিয়া উপজেলার মানুষ ১২ তারিখের অপেক্ষায়। তারা এখন দাঁড়িপাল্লার বিজয় দেখতে চায়। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’
শেষে তিনি বলেন, ‘যুবক ও মুরব্বি—সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। খেলা এখনো শেষ হয়নি। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় শুধু এমপি নির্বাচন নয়, আরও অনেক কিছু হবে, আর সেই যাত্রার অংশীদার হবেন মিতু আপুও।’