আজকের পত্রিকায় প্রতিবেদন
বরিশাল নগরীর বক্ষব্যাধি (টিবি) হাসপাতালের পেছনের ৭০ শতাংশ খাসজমির জলাশয় ভরাট করে দখল ঠেকাতে তৎপর হয়ে উঠেছে সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসন।
আজ সোমবার অবৈধভাবে ভরাট করা ওই জমিতে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। সেখানে খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এ ছাড়া জমিটি উদ্ধারে এই সপ্তাহে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সদর উপজেলা ভূমি অফিস।
এর আগে গতকাল রোববার আজকের পত্রিকায় ‘সরকারি জমি নেতাদের দখলে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রতিবেদনে বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওই ৭০ শতাংশ খাসজমির জলাশয় ভরাট করে দখলের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একটি চক্র আনুমানিক সাড়ে ১০ কোটি টাকার এই জলাশয় বালু ফেলে দখল করে নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
আজ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নির্দেশে উচ্ছেদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। তাতে লেখা ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর ৮ ধারা অনুযায়ী দিঘি ও জলাশয় ভরাট দণ্ডনীয় অপরাধ।’
প্রশাসকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুশফিকুল হাসান মাসুম বলেন, অবৈধভাবে ভরাট করা এই জমিতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই সরকারি জমি দখল করতে দেওয়া হবে না বলে মনে করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
তবে টিবি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী মো. আসাদ বলেন, সিটি করপোরেশন সাইনবোর্ড টাঙালেও প্রভাবশালীরা জমিটি প্লট আকারে বিক্রি করে দিতে পারে।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জমিটি উদ্ধারে আমরা এই সপ্তাহে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করব। আজ জেলা প্রশাসকের কাছে মামলার যাবতীয় নথি বুঝিয়ে দিয়েছি। বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক জমিটি উদ্ধারে তাগিদ দিয়েছেন।
আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, জমিটি খাস খতিয়ানের। একটি চক্র ১০-১৫ বছর আগে জরিপের সময় নিজেদের নামে করিয়ে নিয়েছে। ওরা যে কাগজই দেখাক না কেন, এটা যেহেতু সরকারি খাস খতিয়ানের জমি, সেহেতু তাঁরা জমিটি নিতে পারবে না। এই জমি যেন কোনোভাবে বিক্রির জন্যও দলিল করতে না পারে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, সরকারি জমি কোনোভাবে বেহাত হতে দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি।