আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে না দিলে সরকার পতনের আন্দোলনে নামবে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবিতে আজ বুধবার দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার হল সংলগ্ন সদর রোডে এক মানববন্ধনে এ হুমকি দেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। এক কিলোমিটারেও বেশি দীর্ঘ এ মানববন্ধনে দলের অসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, জাতির সেই মেরুদণ্ডকে সরকার কৌশলে ভেঙে দিয়ে একটি মূর্খ জাতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। নৈশ ভোটে নির্বাচিত সরকার শিক্ষার্থীদের ভয় পায়। যেকোনো ইস্যুতে আন্দোলনের আতঙ্কে করোনার অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে রেখেছে তারা।'
শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনির পদত্যাগ দাবি করে ফয়জুল করিম বলেন, বুধবার পর্যন্ত ৫১৯ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এরই মধ্যে ২০ ভাগ শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলে শিক্ষকদের বেতন ভাতা কমিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
আফগানিস্তানে তালেবানদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে আমেরিকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে আরেকটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে বিশ্বের একটি পরাশক্তির আমাদের প্রতি বিরাগভাজন হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল সরঞ্জাম সচল করার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন ও সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, বরিশাল জেলা সেক্রেটারি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, বরিশাল মহানগরের সহসভাপতি মাওলানা সৈয়দ নাসির আহমাদ কাওছার প্রমুখ।