বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীকে শারীরিক ও সামাজিকভাবে হেনস্তার মাধ্যমে আত্মহত্যায় বাধ্য করা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনে মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম, বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. শারমিন আক্তার, ড. সঞ্জয় কুমার সরকার, মোহসিনা হোসাইন, পম্পা রানী মজুমদার ও সাকিবুল হাসান সাকিব।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, ‘শুভ বৈরাগী আত্মহত্যা করেনি, তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। মৃত্যুর পর আমরা গোপালগঞ্জে গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। শুভর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, “প্রেমের সম্পর্কের জেরে তাকে মারধর ও মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল, যা তাকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।” আমরা দোষীদের বিচার চাই।’
শুভর সহপাঠী শিল্পী বিশ্বাস বলেন, ‘শুভকে যারা আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতেই আমরা এখানে সমবেত হয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘শুভ আমাদের শিক্ষার্থী ছিল। তাকে যারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থী শামিম সিকদার তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং আগামী এক মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া।
প্রসঙ্গত, ৪ জানুয়ারি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর লাশ উদ্ধার করা হয় গোপালগঞ্জের বৌলতলীতে নিজ বাড়ি থেকে। মৃত্যুর আগে তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে অভিযোগ করেন, প্রেমের সম্পর্কের জেরে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছিল।
শুভ বৈরাগীর ফেসবুক পোস্ট সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। গত ৩১ ডিসেম্বর ওই তরুণীর জন্মদিনে দেখা করতে গেলে তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাঁকে আটক করে মারধর করেন বলে অভিযোগ শুভর। একই সঙ্গে জোরপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা তাঁকে গভীর মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দেয়। শুভ বৈরাগী ফেসবুকে তাঁর মৃত্যুর জন্য ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে দায়ী করেছেন।