বরিশালের মুলাদীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াত নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১টার দিকে মুলাদী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুলাদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান ইমাম ৮-১০ জন সহযোগী নিয়ে হামলা চালান। এতে মুলাদী পৌর জামায়াতে ইসলামীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি শাহাদাত সিকদার ও তাঁর দুই ভাই কালাম সিকদার ও নেছার সিকদার আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে শাহাদাত সিকদার মুলাদী মৌজায় ১৭ শতাংশ জমি কেনেন। ওই সময় জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে মেহেদী হাসান ইমাম ও তাঁর লোকজন বাধা দেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সালিস বৈঠক চলতে থাকে। সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল থানা-পুলিশের মধ্যস্থতায় সালিস বৈঠকে তাঁকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার সকালে তিনি জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করলে পুনরায় বাধা দেওয়া হয়। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এতে শাহাদাত সিকদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর দুই ভাইও আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে শাহাদাত সিকদার ও কালাম সিকদারকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নেছার সিকদার বাদী হয়ে মেহেদী হাসান ইমামসহ ১০ জনকে আসামি করে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেদী হাসান ইমাম বলেন, আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী জমিটি তাঁদের। শাহাদাত সিকদার জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়, তবে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।