হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

বান্দরবানে টানা বৃষ্টিতে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা, ৭ উপজেলায় ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

বান্দরবান প্রতিনিধি

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বান্দরবানে গত কয়েক দিনের টানা প্রবল বৃষ্টিপাতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি বেড়ে বন্যা ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করছে। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অতিবৃষ্টির কারণে জেলা সদরের কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপাপাড়া, সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে পাহাড় থেকে মাটি ভেঙে সড়কে পড়ে থাকায় পথচারীদের ভোগান্তি হচ্ছে।

পাহাড়ধসের শঙ্কায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এতে বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ দুপুর ১২টা থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। অতিভারী বর্ষণের ফলে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ের পাদদেশ এবং চূড়ায় বসবাসরত জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের তথ্যমতে, আজ বেলা ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১৩৫ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

টানা বর্ষণের কারণে থানচির দুর্গম তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের সঙ্গে নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় সব পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

থানচি-বান্দরবান সড়কের নীলগিরি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ধসে পড়া মাটি অপসারণ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করেন।

আলীকদম-লামা সড়কের রেপারপাড়ী ও শীবাতলির রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুই দিন ধরে বান্দরবানে অতিবৃষ্টির কারণে যাতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। ৭ উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।