দুই বছর সাজার ভয়ে ১১ বছর আত্মগোপনে থেকে অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন টেম্পু চালক মোন্তাজ মল্লিক (৫৫)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার চাপাতলা এলাকা থেকে মোন্তাজকে গ্রেপ্তার করে বাগেরহাট মডেল থানা-পুলিশ।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোন্তাজ বাগেরহাট সদর উপজেলার চাপাতলা গ্রামের মৃত মিরাজ মল্লিকের ছেলে। তিনি রূপসা-বাগেরহাট পুরোনো সড়কে টেম্পু চালাতেন। ২০০৯ সালে পুরোনো রূপসা-বাগেরহাট সড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান এক পথচারী। ওই ঘটনায় মোন্তাজের নামে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় আদালত তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর সাজা ভোগের ভয়ে মোন্তাজ মল্লিক এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ ১১ বছর পলাতক থাকা মোন্তাজ কয়েক দিন আগে গোপনে বাড়ি আসে। এরপরই খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় ২০১০ সালে মোন্তাজ মল্লিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। সাজার ভয়ে তিনি মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান রেখে চট্টগ্রামে আত্মগোপনে চলে যান। সেখানে তিনি প্রথমে কিছুদিন দিনমজুরির কাজ করতেন। পরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালাতেন।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে মোন্তাজ বলেন, পরিবার, স্ত্রী-সন্তানের জন্য মন কাঁদলেও গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকায় আসতেন না। জেল খাটার ভয়েই এত দিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়ান তিনি।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার সময় থেকেই সে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ২১ দিন আগে সে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসে। তবে গোপনে চলাফেরা করত। তাঁর বাড়িতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই আমরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেছি। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।