বাগেরহাটে ট্রাকের চাপায় ইঞ্জিনচালিত রিকশাচালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের বাগেরহাট সদর উপজেলার বৈটপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বলছে, বাগেরহাটগামী একটি রিকশাকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি খালি ট্রাক চাপা দেয়। ওই রিকশার একজন আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং রিকশাচালকসহ দুজন আহত হন। একই স্থানে ওই খালি ট্রাকটি খুলনাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সও ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি খাদে পড়ে গেলে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী ও তাঁর বোন গুরুতর আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস অ্যাম্বুলেন্সের আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা ইসলামিক হাসপাতালে পাঠায়। অপরদিকে, আহত রিকশাচালকসহ আরোহী দুজনকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিকশাচালকেরও মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বলছে, নিহত রিকশাচালকের নাম লুৎফর সরদার (৫৫)। লুৎফর সরদার বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার দোবারিয়া গ্রামের তৈয়ব সরদারের ছেলে। তবে ঘটনাস্থলে নিহতের নাম-ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত রিকশার যাত্রীর নাম শুকুর এলাইচ রাসেল। তাঁর বাড়ি মোরেলগঞ্জ উপজেলার কালিকাবাড়ি এলাকায়। অ্যাম্বুলেন্সে আহত দুই নারী নাজমা ও নার্গিসের বাড়ি মঠবাড়িয়া এলাকায়।
খাদে পড়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটির চালক মো. মিলন বলেন, ‘দূর থেকে দেখি একটি ট্রাক খুব দ্রুত গতিতে আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই একটি রিকশাকে চাপা দিয়ে আমার অ্যাম্বুলেন্সকে ধাক্কা দেয়। এতে আমার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী ও তার বোন গুরুতর আহত হয়। ট্রাকের হাত থেকে বাঁচতে আমি অ্যাম্বুলেন্সটিকে ডান পাশে নিয়ে আসি, তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি।’
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছি আমরা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তার যানজট নিরসন করা হয়েছে। নিহত দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। অন্যজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পলাতক ট্রাক চালককে আটকের জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে।’