বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়ার খাড়ি এলাকায় জেলেবহরে হানা দিয়ে বনদস্যুরা ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে। গতকাল সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লি দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় আজ মঙ্গলবার জানান, দুবলার নারিকেলবাড়িয়াচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বনদস্যুরা জেলেবহরে হামলা চালায়। এ সময় আটটি ট্রলার থেকে আট জেলেকে তুলে নিয়ে যায় তারা।
অপহৃত জেলেরা হলেন হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫), তুষার বিশ্বাস (৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮) ও উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। তাঁদের সবার বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়।
এ ছাড়া একই রাতে দুবলারচর-সংলগ্ন আমবাড়িয়ার খাড়ি এলাকায় বনদস্যু সুমন-জাহাঙ্গীর বাহিনী অস্ত্রের মুখে আরও ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বলে জানিয়েছেন দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ।
অপহৃত ১২ জন হলেন কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রুপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাঁদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়।
মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন ও সাগর এলাকায় চারটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাপটে জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত দস্যুদের দমন করা না গেলে অনেক জেলে পেশা ছাড়তে বাধ্য হবেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে।