পাবনা-৩ ও ৪ আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবিতে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। আজ শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ওই দুই আসনের বিএনপির নেতা–কর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন হাসান জাফির তুহিন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬টি। তাঁর চেয়ে ৩ হাজার ২৬৯ ভোট বেশি পেয়ে এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের মাওলানা আলী আছগার।
অপরদিকে পাবনা-৪ আসনে ৩ হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের আবু তালেব মণ্ডল। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫টি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।
শুক্রবার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয় কার্যালয়ের প্রধান ফটক। মোতায়েন করা হয় সেনা সদস্য, পুলিশ ও বিজিবি। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানব না’, ‘ভোট গণনা বাতিল চাই, করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে পাবনা-৩ ও ৪ আসনে পরাজিত বিএনপির দুই প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর আশ্বাস দেন। তারপর তাঁরা নেতা-কর্মীদের নিয়ে চলে যান।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন বলেন, ‘নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। অযথা আমাদের নেতা–কর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে। তাই আমি পুনরায় ভোট গণনার জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি, পুনরায় ভোট গণনা করা হলে আমি জয়ী হবো।’
একই অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন পাবনা-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবও।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম বলেন, জেলা প্রশাসক দুই প্রার্থীর আবেদন ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠিয়েছেন। এখন সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।