একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন আল মুজাহিদীর মেয়ে পরমা মুজাহিদী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কবি আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা এবং হৃদ্রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে এবং কিডনি জটিলতাসহ ফুসফুসে পানি জমায় তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালে আজ দুপুরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন কবি আল মুজাহিদী। একসময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এই কবি।
কবিতা, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য অনুবাদসহ বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন আল মুজাহিদী। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’, ‘যুদ্ধ নাস্তি’, ‘মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা’, ‘প্রিজন ভ্যান’, ‘দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ’, ‘ঈডের হ্যামলেট’, ‘প্রাচ্য পৃথিবী’, ‘পৃথিবীর ধুলো’, ‘সৌর জোনাকি’, ‘ভিতা নুওভা’, ‘অ্যাকাডেমাসের বাগান’, ‘আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা’, ‘আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা’, ‘সন্ধ্যার বৃষ্টি’, ‘কালেরবন্দীতে’, ‘পাখির পৃথিবী’, ‘আলবাট্রাস’, ‘কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি’, ‘পালকি চলে দুলকি তালে’ ইত্যাদি।
উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে—‘প্রথম প্রেম’, ‘চাঁদ ও চিরকুট’, ‘মিলু এট ও স্যোন্যাটা’, ‘লাল বাতির হরিণ’ ও ‘আলোর পাখিটা’। ছোটগল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘প্রপঞ্চের পাখি’, ‘বাতাবরণ’, ‘ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ’ ইত্যাদি।
একুশে পদক ছাড়াও কবি আল মুজাহিদী তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরেবাংলা সংসদ পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার ও বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক লাভ করেছেন।