হোম > বিশ্লেষণ

মার্কিন নির্বাচনের পর ইরানে হামলার কৌশলও কেন কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

যুদ্ধের দামামা আবার বেজে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা ভাবছে। গণমাধ্যমে আসা এমন খবরগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে যুদ্ধের প্রস্তুতি চালানো মানেই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, নতুন একটি হামলা কি সেই রাজনৈতিক ফলাফল অর্জন করতে পারবে, যা আগের হামলাগুলো অর্জন করতে পারেনি?

ইরানে হামলার চালানোর বিষয়ে সমর প্রস্তুতির বিষয়ে যেসব তথ্য এসেছে, তা বিশ্বাসযোগ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, শাসন ব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তু এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছে। ৩ নভেম্বরের আগে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করার বিরুদ্ধে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও, প্রতিবেদনটিতে মার্কিন অংশগ্রহণের বিষয়টি অনিশ্চিত রাখা হয়েছিল এবং এটিও স্বীকার করা হয়েছিল যে, প্রস্তুতির এসব খবর ইরানের ওপর আলোচনার চাপ তৈরি করার কৌশলও হতে পারে। এটি এই মতামতকে সমর্থন করে যে, পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়া একটি বাস্তব সম্ভাবনা, তবে নির্বাচনের পরে এটি নিশ্চিতভাবে হবেই—এমন কোনো অঙ্গীকার নয়।

নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করেছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানো বিবেচনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের বিবরণ অনুযায়ী মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। বিপদটি লুকিয়ে আছে এই আশার মধ্যে যে—অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি বাড়তি সামরিক শাস্তি দিলে শেষ পর্যন্ত ইরানি শাসন ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে ফেলা সম্ভব হবে এবং তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করানো যাবে।

তাৎক্ষণিক নির্বাচনী বাধা সরিয়ে নিলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সীমাবদ্ধতাগুলোকে দূর করবে না। ভোটের দিন পার হয়ে গেলেও জ্বালানির উচ্চ মূল্য, মার্কিন সৈন্যদের হতাহত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মতো রাজনৈতিক মাশুল যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিকই গুনতে হবে। ওয়াশিংটন কেবল একটি অভিযানকে ‘সংক্ষিপ্ত’ ঘোষণা করেই তার স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে দিতে পারে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেও এমনটি করেছিলেন, কিন্তু তিনি তার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সেই সামরিক অভিযানকে ধরে রাখতে পারেননি। যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আগেরবারের মতোই ইরানের হাতেও থাকবে।

আমেরিকা ও ইসরায়েলের উদ্দেশ্য কিছু ক্ষেত্রে মিললেও তাদের অগ্রাধিকারগুলো এক নয়। ওয়াশিংটনের স্বার্থ হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে ঠেকানো, নিজেদের সামরিক বাহিনী ও অংশীদারদের রক্ষা করা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য নিরাপদ রাখা।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো তাকে সাময়িকভাবে সামরিকভাবে প্রতিহত করার এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সশস্ত্র প্রতিপক্ষদের সহায়তা করার ইরানি ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া। ইসরায়েলি নেতাদের কাছে চূড়ান্ত কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ছাড়াও ইরানের ক্ষমতা বারবার গুড়িয়ে দেওয়া একটি গ্রহণযোগ্য কৌশল হতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ধরনের একটি অভিযানে সমর্থন দিয়ে যাওয়া কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির কারণ হবে।

ইরানকে দুর্বল করা আর সেখানকার সরকারকে উৎখাত করার মধ্যে বড় তফাৎ রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ধ্বংস করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার ক্ষতি করা, কূটনৈতিক ছাড় আদায় করা এবং শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো—এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা লক্ষ্য। একটি লক্ষ্য অর্জনে সফল হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য লক্ষ্যগুলো অর্জিত হওয়া নয়। সত্যি বলতে, যে সামরিক অভিযান ইরানি নেতাদের মনে করিয়ে দেবে যে তাদের অস্তিত্বই ঝুঁকিতে, তা কোনো সমঝোতামূলক চুক্তিতে পৌঁছানোকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

ওয়াশিংটনের তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক দাবিগুলো এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপরই কেন্দ্র করে রয়েছে। রয়টার্স ১৮ অক্টোবর রিপোর্ট করেছে, আলোচনা থমকে যাওয়ার একটি কারণ ছিল—যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়টি সমাধানের ওপর জেদ ধরেছিল, যেখানে তেহরান চেয়েছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আমেরিকার সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে। এই মতপার্থক্য যুদ্ধের নিষ্পত্তিকরণ নিয়ে দুপক্ষের ভিন্ন ধারণাকেই প্রকাশ করে—ওয়াশিংটন স্বাভাবিক সম্পর্কের আগে কৌশলগত ছাড় চায়, অন্যদিকে তেহরান তার দর কষাকষির মূল হাতিয়ারগুলো বজায় রেখে অর্থনৈতিক স্বস্তি চায়।

আরেকটি আক্রমণ নিশ্চিতভাবেই ইরানের বিপুল ক্ষতি সাধন করতে পারে। বিমান, গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি এবং নিখুঁত হামলার ক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শ্রেষ্ঠত্ব চিহ্নিত যে কোনো স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তাদের যথেষ্ট সক্ষমতা দেয়। ইরান তার আকাশসীমার প্রতিটি অনুপ্রবেশ রোধ করতে পারে না কিংবা সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করতে পারে না। সামরিক আঘাত সহ্য করার ক্ষমতাকে আবার আঘাত এড়িয়ে চলার ক্ষমতা হিসেবে ভুল করা উচিত হবে না।

কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। স্থাপনাগুলো আবার নতুন করে তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু ভেতরের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা তো আর বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পারমাণবিক জ্বালানির মজুত নিয়ে অনিশ্চয়তা সফলতার সুনির্দিষ্ট দাবিকে আরও জটিল করে তোলে। পারমাণবিক কর্মসূচির সরাসরি ক্ষতি করলেও অতিরিক্ত বোমা হামলা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সমস্যাকে আরও বেশি জটিল করে তুলতে পারে।

এর রাজনৈতিক পরিণতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ঘোষিত লক্ষ্যকেই ধ্বংস করে দিতে পারে। ইরানি নেতারা ভাবতে পারেন যে, উত্তর কোরিয়ার মতো প্রকাশ্যে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন না হওয়ার সিদ্ধান্তটি দেশকে বাঁচাতে পারেনি, বরং আক্রমণকে ডেকে এনেছে। এটি যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে তা নয়: প্রযুক্তিগত বাধা, অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ এবং পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন ঠেকানোর জন্য পরবর্তী হামলার ভয় থেকেই যাবে। তা সত্ত্বেও, পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের চাপ বৃদ্ধি পাবে, যা এই হামলাগুলোর আসল লক্ষ্যকেই ব্যাহত করবে।

অতএব, অর্জনযোগ্য কোনো উদ্দেশ্য দিয়ে ইরানের টিকে থাকার সক্ষমতা মাপা দরকার। তেহরানকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করতে হবে না। তাদের কেবল একটি কার্যকর রাষ্ট্র বজায় রাখতে হবে, কিছু প্রতিশোধমূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে একটি সহজ বা সস্তা রাজনৈতিক বিজয় লাভ করা থেকে বঞ্চিত রাখতে হবে। ফলস্বরূপ, তাদের সফলতার মাপকাঠি সেই প্রতিপক্ষদের চেয়ে অনেক কম, যারা চরম রাজনৈতিক পরিবর্তনের (যেমন: পূর্ণাঙ্গ পরমাণুমুক্তকরণ ও সরকার উৎখাত) প্রতিশ্রুতি দেয়।

প্রমাণ বলে যে, ইরান প্রাতিষ্ঠানিক দিক দিয়ে এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়েছে। ডয়চে ভেলে রিপোর্ট করেছে, ইরানের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নতুন করে গড়ে তোলা, আগের হামলায় নিহত কর্মকর্তাদের জায়গায় নতুনদের স্থলাভিষিক্ত করা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। এসব পদক্ষেপের মানে এই নয় যে ইরান তার আগের শক্তি পুরোপুরি ফিরে পেয়েছে। এগুলো ইঙ্গিত করে যে, তাদের নেতৃত্ব সামরিক সমকক্ষতার চেয়ে সাংগঠনিকভাবে টিকে থাকাকেই মূল প্রয়োজনীয়তা বলে মনে করে।

তবে টিকে থাকার সক্ষমতারও একটি সীমা আছে। অর্থনৈতিক দুর্দশা প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ক্ষয় করতে পারে, জনসেবাকে দুর্বল করতে পারে এবং রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াতে পারে। বারবার হামলা চালানো হলে সামরিক উৎপাদন বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে। জনগণের ক্ষোভকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সরকারের ওপর অসন্তোষকে বিদেশী বোমা হামলার সময় সেই সরকারকে উৎখাত করতে সাহায্য করার ইচ্ছা হিসেবে ভুল করা উচিত হবে না। প্রকৃতপক্ষে, এটি জাতীয় মর্যাদা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবরুদ্ধ সরকারের পেছনে জনসমর্থন জোড়ালো করার মতো বিপরীত ফলাফলও আনতে পারে।

সামুদ্রিক ভৌগোলিক অবস্থান ইরানকে তার প্রথাগত সামরিক শক্তির তুলনায় অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি করার সুযোগ করে দেয়। হরমুজ প্রণালিতে আসল বিষয় হলো বাণিজ্যিক আস্থা। তেহরানকে যে একদম শক্ত একটি অবরোধ বজায় রাখতে হবে, তা নয়। মাঝে মাঝে ছোটখাটো হামলা, মাইন পুঁতে রাখা বা বিশ্বাসযোগ্য হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে বীমা কোম্পানি, জাহাজের মালিক ও কর্মীদের সেই পথে যাতায়াত করতে অনিচ্ছুক করে তোলা সম্ভব। নৌবাহিনীর পাহারায় ঝুঁকি কিছুটা কমলেও অনিশ্চয়তা সম্পূর্ণ দূর হয় না।

প্রণালিটি স্থায়ীভাবে বন্ধ—এমন বিবরণের চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ পরিবর্তনশীল। কেপলারের উপাত্ত উদ্ধৃত করে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, নৌ এস্কর্ট ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় জ্বালানি তেলের চলাচল প্রায় যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এই স্বাভাবিক পরিস্থিতি আবার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কাজেই, সব জাহাজ এখনই চলাচল বন্ধ করে দেবে—এমন ধারণার চেয়ে নতুন করে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার পূর্বাভাস দেওয়াটাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

বিকল্প রপ্তানি অবকাঠামো সামান্যই স্বস্তি দিতে পারে। সৌদি ও আমিরাতের পাইপলাইনগুলো হরমুজকে এড়িয়ে যেতে পারে। তারপরও, তাদের বিদ্যমান ক্ষমতা হরমুজের স্বাভাবিক প্রবাহকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না এবং সেগুলোও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়তে পারে। এই বিকল্পগুলো গলফ অঞ্চলের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানির সমস্যার কোনো সমাধান করে না। একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট বৈশ্বিক বাজারের মাধ্যমে সাধারণ আমেরিকায় উৎপাদিত গ্যাসের ক্ষেত্রেও আমেরিকান গ্রাহকদের ওপর খরচ বাড়িয়ে দেবে।

বাব এল-মান্দেব প্রণালি আরেকটি সম্পর্কিত কিন্তু ভিন্ন ধরনের দুর্বলতা তৈরি করে। হুতিদের হামলা লোহিত সাগর-সুয়েজ খাল রুটকে আরও বিপর্যস্ত করতে পারে, যা জাহাজগুলোকে কেপ অব গুড হোপ (উত্তমাশা অন্তরীপ) দিয়ে ঘুরে যেতে বাধ্য করবে, ফলে ভ্রমণের সময় ও ফ্রেইট বা পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। হুতিদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো তেহরানের সরাসরি নির্দেশেই শুধু নয়, তাদের নিজেদের আলোচনার ফলেও আসে। তা সত্ত্বেও, দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে একসঙ্গে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক পরিণতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

ভৌগোলিক অবস্থান এই পরিস্থিতিকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ইয়ানবু থেকে পরিবাহিত সৌদি অপরিশোধিত তেল বাব এল-মান্দেব না পার হয়েই উত্তর দিকে ইউরোপে যেতে পারে, কিন্তু দক্ষিণ দিকে এশিয়ার দিকে যাওয়া জাহাজগুলোকে অবশ্যই ওই পথ দিয়েই অতিক্রম করতে হবে। তাই হরমুজ থেকে সরে বিকল্প পথ নিলেই যে আঞ্চলিক সংঘাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়।

সবচেয়ে বড় কথা, ইরানের ওপর নতুন করে আক্রমণ শুরু হলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর (যার মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে) তুলনামূলক দুর্বল ও সহজ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে। এগুলোর মধ্যে কেবল আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিই নয়, তেল ও গ্যাস স্থাপনা, বিমানবন্দর, পর্যটন কেন্দ্র এবং অন্যান্য মূল্যবান অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুও অন্তর্ভুক্ত থাকবে—যা বৈদেশিক বিনিয়োগ ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের বর্তমান অভিযান থেকে ইরানিরা এই শিক্ষাটি ভালোভাবেই অর্জন করেছে। তেহরান যদি পরবর্তী আক্রমণকে শাসন ব্যবস্থা এবং তাদের রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করে, তবে তারা কোনো নিয়মকানুন না মেনে সর্বাত্মক প্রতিশোধ নিতে পারে। বিশেষ করে তাদের প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর, কারণ তখন তারা মনে করবে যে তাদের আর হারানোর কিছুই নেই। ফলে আবার বোমা হামলা চালানোর সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি হলো, চরম আত্মসমর্পণের নিশ্চয়তা ছাড়াই ইরানের সাময়িক অবক্ষয় ঘটানো: অর্থাৎ, শক্তিতে অসম সামরিক যুদ্ধ যা শেষ পর্যন্ত একটি অনিশ্চিত ও অসংলগ্ন রাজনৈতিক ফলাফল তৈরি করবে।

দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট থেকে অনূদিত

ইউক্রেনকে পঙ্গু করতে রাশিয়ার ‘হিট লিস্টে’ যেসব স্থাপনা

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ: এর মানে কী

১০ দিনে ৪ মহাদেশে ৪ নির্বাচন, বড় পরীক্ষার মুখে গণতন্ত্র

ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে জাতিসংঘ: প্রথম নারী মহাসচিবের সম্ভাবনা, প্রার্থী যাঁরা

দেশে দেশে কেন বিদ্রোহ করছে জেন-জি

নিরাপত্তা-সমৃদ্ধি ও সংস্কার: তিন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় সৌদি যুবরাজ

ভারতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জ্যোতিষশাস্ত্রের বাজার এখন ৭০ হাজার কোটি টাকা, কীভাবে হলো

নির্বাচনে এবার নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই সহজ নাকি কঠিন

ট্রাম্পকে ‘শায়েস্তা’ করতে চায় ইরান, নিয়েছে যে কৌশল

কিম জং-উনের মৃত্যুর গুজব কেন বারবার ফিরে আসে