হোম > বিশ্লেষণ

কেন হঠাৎ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত দিলেন পুতিন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সিএনএন

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত ৯ মে মস্কোতে রাশিয়ার বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি বলেন—ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়টি ‘সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে’ বলে তাঁর বিশ্বাস। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এবারই প্রথম পুতিন প্রকাশ্যে যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তির কথা উল্লেখ করলেন। যদিও মন্তব্যটি ছিল সংক্ষিপ্ত, তবু বিশ্লেষকদের মতে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সোমবার (১১ মে) এই বিষয়ে সিএনএন-এর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিজয় দিবসের ভাষণে পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পুরোনো কড়া অবস্থান এবার পুনরাবৃত্তি করেননি। বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার ভেতরে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। দেশটির সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা গেছে। যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অভিজাত মহলেও চাপা উদ্বেগ বাড়ছে।

পুতিন আরও একটি চমক দেন ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারের নাম উল্লেখ করে। শ্রোডার দীর্ঘদিন ধরেই পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে ইউরোপে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এখন অনেকটাই ক্ষুণ্ন। ফলে এই প্রস্তাবকে অনেকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। তবু বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের প্রতি একটি কূটনৈতিক বার্তাও হতে পারে।

চার বছরের ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া কিছু অঞ্চল দখল করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও দনবাস পুরোপুরি দখলের যে লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, তা এখনো অনেক দূরের বিষয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও অর্থনীতি উভয়ই চাপে পড়েছে। সেনা নিয়োগেও সংকট দেখা দিয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কারাবন্দিদের ব্যবহার করে যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার কৌশলও কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

এদিকে ইউক্রেনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সৈন্য সংকট সেখানে আরও তীব্র। তবে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহারে তারা উল্লেখযোগ্য সুবিধা অর্জন করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে আক্রমণ, রসদ সরবরাহ ও প্রতিরক্ষায় ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তি রাশিয়ার অগ্রযাত্রা অনেকাংশে থামিয়ে দিয়েছে। গত মার্চে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা চাইতে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যোগাযোগ করে, যা ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারই প্রমাণ।

মস্কোর রেড স্কয়ারের এবারের কুচকাওয়াজও ছিল ভিন্নধর্মী। আগের বছরের মতো ভারী সামরিক সরঞ্জামের প্রদর্শনী ছিল না। কেবল সেনাদের উপস্থিতি চোখে পড়ে, অথচ তারাও এখন ক্রমশ সংকটে। যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার ভেতরে মনোবল ভাঙার লক্ষণও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি এখনো দ্রুত বদলে যেতে পারে। রাশিয়া সীমান্তে নতুন করে সেনা সমাবেশ করছে বলেও খবর রয়েছে। তবু বর্তমানে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে পুতিন হয়তো প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করছেন—এই যুদ্ধ অনন্তকাল চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ইতিহাস বলে, সব যুদ্ধই একসময় শেষ হয়। আর হয়তো সেই বাস্তবতাই এখন ক্রেমলিনকেও ভাবাচ্ছে।

কী আছে ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান করা ইরানের প্রস্তাবে

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: আরও এক দশক পাকাপোক্ত হলো মোদির শাসন

তাইওয়ানে সম্ভাব্য আক্রমণের আগে ইরান যুদ্ধে অনেক কিছুই পরখ করছে চীন

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত পুতিনের, এখনই কেন

এবার রাম, পরে বাম—বাম ভোটারদের নীরব কৌশলেই কি বিজেপির বাংলা জয়

১১ বছর আগে তৃণমূলের মঞ্চে উপেক্ষিত শুভেন্দুই আজ পশ্চিমবঙ্গের ‘মঞ্চনেতা’

ইরান যুদ্ধে বিলিয়ন ডলার আয় করেছে যেসব কোম্পানি

খালি হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির মজুত, তাতেই কি সুর নরম ট্রাম্পের

তিস্তা ইস্যুতে ভারতের বলা ‘নদীসংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো’ মূলত কী

ক্রমেই মোদির এক দলের শাসনের অধীনে চলে যাচ্ছে ভারত