হোম > বিশ্লেষণ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন: এসআইআর আতঙ্ক, বাঙালি অহং এবং পরিচয়ের তালগোল পাকানো রাজনীতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোটার উপস্থিতি কিসের বার্তা দিচ্ছে? ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যুর ধার যেন ভোঁতা হয়ে গেছে রাজ্যের অসম, ভাঙাচোরা বাস্তবতায়। নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) ঘিরে যে প্রশ্ন, তা কোনোভাবেই এড়ানো যায় না। গণতান্ত্রিক চুক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নাগরিকের ভোটাধিকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মৌলিক প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এই এসআইআর নিয়েও পশ্চিমবঙ্গে বিভাজনের রেখাগুলো সরল নয়। বর্তমানে সহানুভূতি ও সংহতির সম্ভাবনাগুলো জটিল অতীতের বোঝায় বারবার থমকে যাচ্ছে।

এসআইআর নিয়ে এখন পর্যন্ত যে হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে তা হলো—এটি ব্যাপক হারে ভোটার বঞ্চনা এবং টার্গেট করে বা লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বাদ দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। খসড়া তালিকা থেকে প্রথম দফায় প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার পর, দ্বিতীয় দফায় আরও ৬০ লাখ নামকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা যাচাইের অধীন রাখা হয়। এর মধ্যে আরও প্রায় ৫ লাখ নাম মাঝপথে বাদ যায়। যাচাইয়ের অধীনদের মধ্যে ২৭ লাখ নাম বাদ পড়ে। বাদ পড়াদের বেশির ভাগই মুসলিম-প্রধান আসনগুলোর ভোটার। ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল অস্বাভাবিকভাবে দেরিতে এবং ধীর গতিতে কাজ শুরু করে। ফলে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের দিন পর্যন্ত মাত্র ১৩৯ জনের ভোটাধিকার পুনর্বহাল হয়।

এ ধরনের একটি প্রক্রিয়া, যেখানে নিজের নির্দোষ হওয়া বা নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটারের ওপর, এবং যেখানে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের অন্য যেকোনো রাজ্যের তুলনায় বেশি আমলাতান্ত্রিক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে গভীর গণতান্ত্রিক উদ্বেগের বিষয়। এর প্রভাব অবশ্যই ৪ মের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিফলিত হবে। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে ভোটারদের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া একরৈখিক বা একরকম নয়।

কলকাতার ড. শ্যামা প্রাসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনের ভবনের বাইরে দেখা যায় নাম কাটা পড়া মানুষের ভিড়। ভবনের ভেতরে বসে থাকা ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল যেন অদৃশ্য ও অস্বচ্ছ। আবেদনকারীরা কেবল ব্যারিকেড দেওয়া গেটের বাইরে থাকা পুলিশ পর্যন্তই পৌঁছাতে পারেন। ডায়মন্ড হারবার পুলিশের এসপি তথাগত বসু বলেন, ‘প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন আসে, কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না।’

কিছুদিন আগে ২৬ বছর বয়সী হাসান খান পূর্ব বর্ধমানের বাড়ি থেকে জোকায় আসেন। তিনি বলেন, ‘ভোর ৪টায় রওনা দিয়েছি, বাস, ট্রেন, আবার বাস ধরেছি।’ তাঁর ছয় সদস্যের পরিবারের মধ্যে তিনজনের নাম ভোটার তালিকায় নেই। তিনি বলেন, ‘কেন ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ দেখাচ্ছে, আমরা জানি না। তিনি বলেন, ‘পুলিশ বলছে, ফিরে গিয়ে অনলাইনে দেখো, ফোনের জন্য অপেক্ষা করো। কিন্তু আমাদের ভেতরে ভয় আছে—যেভাবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, যেকোনো সময় যে কেউ বলে দেবে আমরা বাংলাদেশি। যদি আমার নাম তালিকায় না থাকে, আমাকে কি ভারতে থাকতে দেবে? নির্বাচন কমিশন যে সব কাগজ চেয়েছিল, সব দিয়েছি... আমি অপেক্ষা করব।’

শহরের অন্য প্রান্তে, হাসানের উদ্বেগ প্রতিধ্বনিত হয় দমদমের রাজমিস্ত্রি ফিরোজ খানের কথায়। তিনি বলেন, ‘শুনানির জন্য ডেকেছিল, কিন্তু আমি তখন বেঙ্গালুরুতে কাজ করছিলাম, আসতে পারিনি...যদি আমার নাম কেটে দেয়, আমার সন্তানদের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। রেশন বা অন্য সরকারি সুবিধা পাব না।’ তাঁর মনে এক ভয় কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে, যেমনটা আসামে করেছে। আমি হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ে কাজ করি... কীভাবে পরিবারকে রক্ষা করব?’

মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সংখ্যালঘু ভোটকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আরও সংহত করতে পারে। ১৫ বছরের শাসনের ভারে তৈরি হওয়া ফাটল কিংবা দিদি নামে পরিচিত মমতা এই প্রক্রিয়া থামানোর প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি—এমন ধারণা, এমনকি তার আগে ওয়াকফ বিল নিয়েও ব্যর্থতার অভিযোগ—এসবকে আড়াল করে দিতে পারে এই পরিস্থিতি। হাওড়ার হাকোলা গ্রামে এসকে নজরুল বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে গরিব আর সংখ্যালঘুদের একের পর এক লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে...মোদি জি শুধু কষ্ট–ভোগান্তি পাঠাচ্ছেন। আমরা তার পাশেই দাঁড়াব, যে আমাদের পাশে দাঁড়ায়। দিদি এসআইআর নিয়ে আদালতেও গিয়েছিলেন।’

তবে এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ অনেক জায়গায় যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে আরেক বাস্তবতায়। সংকটে থাকা সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিজেদের এই দেশেই অন্তর্ভুক্তির দাবি জোরালো করে তোলার এক তাগিদে। মুসলিম মহল্লাগুলোর অনেকেই বলছেন, ‘আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমরা এই দেশেরই মানুষ। আমরাও চাই বাইরের লোকজনকে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হোক।’

অন্যদিকে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অনেকেই এসআইআরকে দেখছেন প্রয়োজনীয়—যদিও অসম্পূর্ণ—এক পরিশোধন প্রক্রিয়া হিসেবে। তাদের মতে, ‘ঘুসপৈতিয়াদের’ বা অনুপ্রবেশকারীদের কারণে এটি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে এই মনোভাবের পেছনে কাজ করছে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা। বিরামপুর গ্রামের ছোট একটি পোশাক কারখানার মালিক সমর শ বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে এক টাকা দেয়, বাইরের লোক ঢুকলে আমি পাব ৭০ পয়সা।’ কলকাতার পানিহাটিতে ডাবের পানির দোকানে কাজ করা রজত মুখার্জি বলেন, ‘সম্পদ সীমিত। বাইরে থেকে লোক এলে তারা আমাদের ব্যবসা খেয়ে ফেলে, তাদের ফিরে যেতে হবে।’

এসআইআর সঠিকভাবে করা উচিত—বলে মনে করেন রজত। তাঁর মতে, দেশের ভেতরের লোক আর বাইরের লোককে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা দরকার। তাঁর ভাষায়, ‘কিন্তু সমস্যা হলো, বিএলওরা (যারা এসআইআর নিয়ে কাজ করে) পক্ষপাতদুষ্ট...তারা টিএমসির (তৃণমূল কংগ্রেস) লোক।’ রজতের এই ধারণা ‘নির্বাচন যন্ত্র বা তার একটি অংশ শাসক দলের ছায়াই আছে’—এমন ধারণার বিপরীতে অনেক ভোটারের কাছে ‘দিদি’ এবং বিজেপি/নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বিভাজনরেখাকে অস্পষ্ট করে দিয়েছে।

কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সের ইতিহাসবিদ তপতী গুহ ঠাকুরতা মনে করেন, এই নির্বাচনে ‘ঘুসপৈতিয়া’ আতঙ্কের আবহ আসলে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং রুচির অবক্ষয়ের ফল। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিভাজন কখনোই সুনির্দিষ্ট ছিল না, মানুষের চলাচল ছিল অব্যাহত, জনসংখ্যাও ছিল প্রবহমান...পশ্চিমবঙ্গ একসময় বিপুল শরণার্থীর ঢলকে আশ্রয় দিয়েছিল। শরণার্থী, আশ্রয়ের যোগ্য—পরিচয় থেকে বাংলাভাষী মুসলিম শ্রমজীবী অভিবাসী শ্রেণিকেই এখন অনুপ্রবেশকারীর তালিকায় ফেলা হয়েছে। এই শ্রেণির বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা বাংলাদেশি।’ তাঁর মতে, ‘আমরা’ আর ‘ওরা’—এই বিভাজনের বোধ হয়তো পশ্চিমবঙ্গের সমাজে বরাবরই ছিল। কিন্তু দুই ধর্মীয় সম্প্রদায় একসঙ্গে থাকলেও আলাদা হয়েই থেকেছে।

এই নির্বাচনে আরেকটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ ‘বাংলা অস্মিতা’ বা ‘বাংলার অহং।’ এটি সামনে এনে টিএমসি বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলায় অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলছে। এটি অতীতে আরও বিস্তৃত ধারণা ছিল। এটি সংস্কৃতি ও ভাষার বন্ধনে আবদ্ধ দুই বাংলাকেই (পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ) একসূত্রে গেঁথে রাখত। তপতী গুহ ঠাকুরতা বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশকে ঘিরে আমাদের অনেকের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল সেখানে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করা।’

এই নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি–বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ‘বাঙালি’ ভাবধারার প্রচার চালাচ্ছে। ইশতেহার, পোস্টার—সবকিছুতে বাংলা ভাষার ব্যবহার থেকে শুরু করে মঞ্চে কেবল বাঙালি নেতাদের উপস্থিতি, এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর এই আশ্বাস যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবেন এমন কেউ, যিনি বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন—সব মিলিয়ে নরেন্দ্র মোদির দল সচেতনভাবেই বাঙালিত্বকে তুলে ধরতে এবং নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় বাঙালি-অবাঙালি বিভাজনও যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। একদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে কাজের জন্য অভিবাসন সাংস্কৃতিক দেয়াল তুলে ধরা কঠিন করা হয়েছে। নদীয়া জেলার সন্তোষপুর গ্রামের এক চায়ের দোকানে জীবন কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘আমার ছেলেরা কাজের জন্য কেরালায় যায়, আমি কীভাবে অন্য ভাষাকে অপছন্দ করব? রাজ্যের মধ্যে যাতায়াত হচ্ছে, দেশ তো একটাই।’

অন্যদিকে, কলকাতার পতুলিতে একটি কৃত্রিম লেকের ধারে লেখক রক্তিম দাস বলেন, ‘কোন বাংলা অস্মিতা? দিদি নিজেই তো ঠিকমতো বাংলা বলতে পারেন না।’ তিনি পাশের ফুটপাথে গড়ে ওঠা দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের নকল কাঠামো এবং দুর্গার মূর্তির দিকে অবজ্ঞাভরে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কলকাতা এখন ভারতের অসংস্কৃতির রাজধানী।’

এভাবে, শ্রেণি বিভেদের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণি—ঔপনিবেশিক যুগে গড়ে ওঠা উচ্চবর্ণ ও পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, যারা বাম শাসনামলে সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলকে প্রভাবিত করেছিল—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র জনমুখী রাজনীতি এবং তাঁর প্রতিফলন হিসেবে গড়ে ওঠা জনপরিসরের স্থাপত্য ও প্রতীকচর্চাকে নান্দনিক দৃষ্টিতে খাটো করে দেখছে। কিন্তু তারা যখন বাঙালি সংস্কৃতির অভিভাবকত্ব নিয়ে তাঁর দাবিকে প্রশ্ন করছে, তখন নিজেদের পায়ের নিচের জমিও সরে যাচ্ছে। তপতী গুহ ঠাকুরতা বলেন, ‘এই নির্বাচন ভদ্রলোকদেরও এক সংকট। তাদের মূল্যবোধ বিজেপির কাছেও হুমকির মুখে, আবার টিএমসির কাছেও। আর বাঙালি হওয়া—সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে—এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে জমি তৈরি করা বিজেপি সেই সুযোগ আরও প্রসারিত করতে চাইছে। তারা ‘বাংলা অস্মিতা’র দোদুল্যমান ধারণার মোকাবিলা করছে হিন্দুত্বের মাধ্যমে, পাশাপাশি উপ-জাতিগত পরিচয়ের আবেদনও সামনে আনছে।

সল্ট লেকের এক সজ্জিত কার্যালয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতা জানান, রাজবংশী সম্প্রদায়ের কথ্য ভাষা কামতাপুরি এবং মাহাতো সম্প্রদায়ের ভাষা কুর্মালিকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস—এই লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারের অংশ। তাঁর দাবি, নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য একাধিক নতুন বোর্ড গঠন করেছে—যা বিজেপির এই প্রচেষ্টার সরাসরি প্রতিক্রিয়া। বিজেপির মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র চ্যালেঞ্জের একটি বড় কারণ হলো, বামপন্থী শক্তির পতনের পর তিনিই নাকি পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির অবাধ বিস্তারের পথ খুলে দিয়েছেন—এমন ধারণা রয়েছে।

একদিকে, বিজেপি তাঁকে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগে আক্রমণ করছে। অন্যদিকে, সমালোচকদের মতে—তিনি আবার হিন্দু ধর্মীয় আবেগকেও প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ছট পূজায় রাজ্য ছুটি ঘোষণা থেকে শুরু করে নিউ টাউনে ‘দুর্গাঙ্গন’ নামে বিশাল সাংস্কৃতিক ও মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা; দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে স্কাইওয়াক নির্মাণ থেকে দিঘায় জগন্নাথ ধামের উদ্বোধন—সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা এখন এক অবিচ্ছিন্ন গণউৎসব ও থিমে পরিণত হয়েছে। এভাবে, ‘দিদি’ যখন বিজেপির ‘দাদা’র মুখোমুখি—এবং নিজের ১৫ বছরের শাসনামলের হিসাবের মুখে—তখন দুই পক্ষই স্পষ্ট বিভাজনরেখা টানার চেষ্টা করছে। কিন্তু মাটির বাস্তবে সেই রেখাগুলো যতটা কঠিন মনে হয়, আসলে ততটাই পরিবর্তনশীল।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

পাকিস্তানের কাছে কেন হঠাৎ ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত চাইল আমিরাত

ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার পেশাদার কূটনীতিক নন রাজনীতিক, কেন প্রথা ভাঙল ভারত

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন: বিজেপি কি পারবে ১০০ আসনের গণ্ডি পার করতে

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন: বিজেপি কেন আর বাংলাদেশবিরোধী বয়ান দিচ্ছে না

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনার আড়ালে ঢাকাকে কী বার্তা দিল দিল্লি

এশিয়ার মতো সংকটে পড়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্র—কে আগে নতি স্বীকার করবে

ট্রাম্পকে বধিতে গোকুলে বাড়িছে তাঁরই ‘দানব’

ইউনূস সরকারের বাণিজ্য চুক্তি: কী অর্জনের জন্য এত বিসর্জন

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রেম কি বিচ্ছেদের পথে