হোম > বিশ্লেষণ

দ্য আর্ট অব ডেস্ট্রয় অ্যান্ড ডিল: ট্রাম্প-রুবিও নীতি ইরানে কি ব্যর্থ হতে চলেছে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ট্রাম্প ও মার্কো রুবিও। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই শুরুর পরপরই, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি এআই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। কালো পাগড়ি ও আলখাল্লা পরিহিত রুবিওকে সেখানে এক ইরানি সামরিক কুচকাওয়াজে সভাপতিত্ব করতে, মসজিদে ভাষণ দিতে এবং তেহরানের দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘মার্কো রুবিও উপলব্ধি করছেন যে তিনিই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা।’

যদিও এটি ব্যঙ্গ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, তবুও ভিডিওটি রুবিওর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ফুটিয়ে তোলে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈরী সরকারগুলোকে উৎখাত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। একসময় তাঁকে ট্রাম্পের আদর্শের সঙ্গে এতটাই বেমানান মনে করা হতো যে অনেক কর্মকর্তা ও রাজনীতিক সন্দেহ করেছিলেন তিনি এই প্রশাসনে এক বছরও টিকবেন কি না। কিন্তু আজ রুবিও ইরান, ভেনেজুয়েলা, কিউবা এবং এর বাইরের সরকারগুলোকে পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের আগ্রাসী অভিযানের নেতৃত্বে দিচ্ছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে আমেরিকার যুদ্ধগুলো শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন রুবিও এবং তাঁর আদর্শিক সহযোগীদের সমর্থিত নীতিগুলো গ্রহণ করছেন, বাস্তবায়ন করছে। এটি সেসব সমর্থকদের হতাশ করেছে, যাঁরা ভেবেছিলেন ট্রাম্প সামরিক সংযমের এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন।

তবে মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, রুবিও ট্রাম্পকে জর্জ ডব্লিউ বুশ আমলের ‘নিউ-কনজারভেটিজম’ বা নব্য রক্ষণশীলতার ছাঁচে রূপান্তর করার চেষ্টা করছেন না। সেই আদর্শ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে অন্য দেশগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করত। এর পরিবর্তে, তিনি নীতিহীন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছেন বলে মনে হচ্ছে। এটি মূলত নব্য রক্ষণশীলতার সঙ্গে ট্রাম্পের লেনদেনভিত্তিক রাজনীতির এক সংমিশ্রণ। যার অর্থ হলো মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে স্বৈরাচারী দেশগুলোকে অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করা।

এটি শাসন পরিবর্তন নয়, বরং শাসনের আনুগত্য। একে বলা যেতে পারে ‘ধ্বংস ও চুক্তির’ (destroy and deal) একটি মতবাদ। প্রথাগত নব্য রক্ষণশীলরা গণতন্ত্রের প্রচার এবং জাতি গঠনকে নৈতিক মঙ্গল হিসেবে দেখতেন, এমনকি তা বন্দুকের মুখে হলেও। তারা এগুলোকে শত্রুদের সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার এবং আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে আমেরিকান প্রভাব বিস্তারের উপায় হিসেবে মনে করতেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যতক্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো আনুগত্য দেখাবে, ততক্ষণ তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি তাদের নিজেদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে।

ওয়াশিংটনের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের গবেষক এমা অ্যাশফোর্ড বলেন, ‘রুবিও এবং এই তরুণ গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে পররাষ্ট্রনীতি শাসন পরিবর্তনের চেয়ে ক্ষমতার বিষয়ে বেশি। এটি আমেরিকান সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা এবং অন্য রাষ্ট্রগুলোকে আমাদের ভয় ও শ্রদ্ধা করতে বাধ্য করার বিষয়ে।’

গত মাসে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে রুবিও এই ধারণার রূপরেখা তুলে ধরেন। সেখানে এক বক্তব্যে তিনি ‘মহান পশ্চিমা সাম্রাজ্যগুলোর’ পতন নিয়ে আক্ষেপ করেন এবং শপথ করেন, আমেরিকা তাদের উত্তরাধিকার বহন করে চলবে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘পরিষ্কার করে বললে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের একজন প্রবক্তা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, তিনি যেখানে পারেন শান্তি স্থাপন করেন, কিন্তু আমেরিকার জন্য হুমকির মোকাবিলা করতে তিনি কখনো দ্বিধা করবেন না। এটি এমন একটি নীতি যা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও পুরোপুরি সমর্থন করেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ফলাফলগুলোই তার প্রমাণ।’

খাপ খোলা তলোয়ার ‘চিয়াং অবমুক্তকরণ’

ইরানের প্রতি রুবিওর সতর্কতা ছিল সহিংস এবং কিছুটা রহস্যময়। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা আগামী কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে এই লোকদের ওপর চিয়াংকে মুক্ত করতে যাচ্ছি।’

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই এই রহস্যময় প্রসঙ্গটি সামনে আসে। বিশেষ করে তখন, যখন তিনি ইরানে আমেরিকান-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ত্বরান্বিত করার কথা বলছিলেন। ক্যাপিটল হিলে তিনি বলেন, ‘আপনারা এই আক্রমণগুলোর পরিধি এবং তীব্রতায় একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করবেন। কারণ, বিশ্বের দুটি সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহিনী এই সন্ত্রাসী শাসনকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।’

চিয়াং শব্দটি রুবিও এবং বুশ পরিবারের মধ্যে একটি স্বল্প পরিচিত সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে। এই পরিবারের কনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ছিলেন এই শতাব্দীর ইরাক ও আফগানিস্তানের দুটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ স্থপতি।

২০০৫ সালে রুবিও যখন ফ্লোরিডা বিধানসভার স্পিকার হতে যাচ্ছিলেন, তখন জর্জ ডব্লিউ বুশের ছোট ভাই এবং ফ্লোরিডার তৎকালীন গভর্নর জেব বুশ রুবিওকে একটি সোনালি তলোয়ার উপহার দিয়েছিলেন। বুশ বলেছিলেন, এটি ‘এক মহান রক্ষণশীল যোদ্ধা রহস্যময় চিয়াংয়ের তলোয়ার’।

এটি ছিল একটি ঘরোয়া রসিকতা। চিয়াংকে অবমুক্ত করা—বাক্যটি ডব্লিউ বুশের বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং চীনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ টেনিস প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলতেন। এটি চিয়াং কাই-শেককে নির্দেশ করত। কাইশেক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত চীনা সামরিক নেতা এবং ‘মাও’-এর কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছিলেন।

রুবিওর কট্টর পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘকাল ধরে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর এই নীতি অবশেষে তাঁর ভেতরের চিয়াংকে মুক্ত করছে এবং বিশ্বজুড়ে তার সোনালি তলোয়ার ব্র্যান্ডিং করছে। এমনকি তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আগাম যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবং একটি অস্তিত্বহীন আসন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন। ঠিক একই ভাষা ব্যবহার করে বুশ প্রশাসন ইরাক আক্রমণের ন্যায্যতা দিয়েছিল।

নব্য রক্ষণশীলদের প্রভাব সেই প্রেসিডেন্টের অধীনে এবং ৯/১১ পরবর্তী যুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাদের ধারণাগুলো এখনও ওয়াশিংটনে প্রভাবশালী এবং তাদের কিছু দৃষ্টিভঙ্গি এখন ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রভাগে রয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন রুবিও।

এর মধ্যে একটি হলো—ইসরায়েলের সঙ্গে আমেরিকান সামরিক অংশীদারত্ব জোরদার করা এবং ইসরায়েলের শত্রুদের—বিশেষ করে ইরানকে—আঘাত করা। গত জুনে ইসরায়েলের শুরু করা ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইরানে হামলা চালায়।

রুবিও ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও। তিনি এই আক্রমণ এবং প্রশাসনের অন্য প্রধান সামরিক অভিযানগুলোর পরিকল্পনায় সহায়তা করেছেন। ট্রাম্প গত এক বছরে আটটি দেশে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন বলেন, ‘রুবিও আমাদের প্রথম সারির মিত্র। তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। তিনি সবসময় পাশে ছিলেন।’ ওরেন এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন যে রুবিও ট্রাম্পকে যুদ্ধের দিকে টেনে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই দুজন অংশীদার এবং ট্রাম্প ইতিহাসে তার ছাপ রেখে যাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে তাঁর উত্তরাধিকার কোথায়? এটি পররাষ্ট্রনীতিতে এবং একটি সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতি, বিচ্ছিন্নতাবাদী নয়। আমি মনে করি ট্রাম্প এর গুরুত্ব বোঝেন এবং রুবিও ঠিক সেখানেই আছেন। তাঁরা একই তালে চলছেন।’

বশ্যতা অনুসন্ধান

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রুবিও যখন ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন, তখন তিনি প্রেসিডেন্টের ‘নতুন কোনো যুদ্ধ নয়’ প্রচারণার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তাল মেলাতে জনসমক্ষে তাঁর যুদ্ধংদেহী মনোভাব কিছুটা কমিয়ে আনেন।

তিনি রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কেও নমনীয় সুরে কথা বলতে শুরু করেন, যাদের স্বৈরাচারী নেতাদের ট্রাম্প পছন্দ করেন—অথচ রুবিও একসময় তাদের নব্য রক্ষণশীলতার ‘ভালো বনাম মন্দ’ তত্ত্বে নিন্দা করতেন।

কিন্তু গত গ্রীষ্মে, রুবিও সে দেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের মুখপাত্র হয়ে ওঠেন যাদের ট্রাম্প প্রশাসন দুর্বল মনে করে। তিনি জুনে ইরানের ওপর হামলা সমর্থন করেন এবং ভেনিজুয়েলার স্বৈরাচারী নেতা নিকোলাস মাদুরোকে নির্বাচন চুরি এবং রুবিওর ভাষায় একটি ‘নার্কো-টেররিস্ট’ গোষ্ঠী পরিচালনার জন্য জবাবদিহি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এর ফলে ভেনিজুয়েলার কাছে বেসামরিক নৌকায় প্রাণঘাতী মার্কিন হামলা চালানো হয় এবং জানুয়ারিতে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবিও তাঁর ভেতরের কট্টর রূপটি পুরোপুরি উন্মোচন করেন যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। তিনি কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে দুর্বল বা উৎখাত করার প্রশাসনের লক্ষ্যের কথা গোপন রাখেননি, যা তার কয়েক দশকের ব্যক্তিগত মিশন।

তবে ট্রাম্পের পথ অনুসরণ করে, রুবিও এই স্বৈরাচারী সরকারগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতেও আগ্রহী।

রুবিও যখন কিউবায় তেলের চালান আটকে দিয়ে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছেন, তখন তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউলের নাতি রাউল গুইলারমো রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর সঙ্গে কিউবার অর্থনীতি উন্মুক্ত করার বিষয়ে গোপনে আলোচনা করছেন।

তিনি ভেনিজুয়েলার দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, যিনি মাদুরোর একজন বামপন্থী স্বৈরাচারী সহযোগী এবং বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছেন। রুবিও রক্ষণশীল গণতন্ত্রপন্থী বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে ক্ষমতায় আনার জন্য চাপ দিচ্ছেন না, যদিও ২০২৪ সালে সেনেটর হিসেবে রুবিও মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার একটি পত্রে সই করেছিলেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের লক্ষ্য শাসন পরিবর্তন কি না, সে বিষয়েও তিনি পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন। যদিও তিনি দেশ শাসনকারী ‘কট্টর শিয়া মৌলবাদীদের’ সমালোচনা করেছেন এবং প্রথম ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ আয়াতুল্লাহ নিহত হয়েছেন, তবুও তিনি স্পষ্টভাবে বলেননি যে তাদের উৎখাত করা যুদ্ধের একটি লক্ষ্য। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তিনি একদিকে গণ-অভ্যুত্থানে উৎসাহিত করেছেন, আবার বর্তমান ইরানি সরকারের কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তিতেও আগ্রহ দেখিয়েছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা জন বোল্টন ছিলেন মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রবক্তা। তিনিও বলেছেন, প্রশাসনের উচিত শাসন পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।

জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বোল্টন বলেন, ‘ট্রাম্পের সংকল্পের বিষয়ে বলা যায়, তিনি স্পষ্টতই দিনের পর দিন পরিস্থিতি অনুযায়ী চলছেন, যা এই রেজিমের ওপর চাপ সর্বোচ্চ করার বা বিরোধীদের সাহায্য করার কোনো সঠিক উপায় নয়।’

রুবিও ট্রাম্পকে রক্তপাতের পথে নিয়ে গেছেন কি না, অথবা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রেসিডেন্টকে সেই পথে পরিচালিত করা থেকে বিরত রাখতে কিছু করেছেন কি না—সেই বিতর্ক রয়েছে। তবে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিয়ামি থেকে আসা কিউবান আমেরিকান রাজনীতিবিদ কার্লোস ট্রুজিলু বলেন, বিষয়টি এত সহজ নয়।

তিনি বলেন, ট্রাম্প এবং রুবিও উভয়ই এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করছেন, যারা আমেরিকানদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল শাসন পরিবর্তনের জন্য শাসন পরিবর্তন নয়, বা গণতন্ত্রের খাতিরে শাসন পরিবর্তন নয়।’

ট্রুজিলু আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবা ও ভেনিজুয়েলা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি ধীরস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ‘এটি হবে মুক্তবাজারের দিকে ফিরে যাওয়ার একটি উত্তরণ এবং একটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের দিকে ফেরার যাত্রা। আপনি অলিগার্কি বা মুষ্টিমেয়র শাসন বন্ধ করবেন, বাজার উন্মুক্ত করবেন, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের অনুমতি দেবেন, আইনের শাসনকে সম্মান করবেন এবং একটি স্বীকৃত নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবেন।’

কিউবা এবং ভেনিজুয়েলা প্রশাসনের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। তবে ইরানের যুদ্ধই হয়তো ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি এবং রুবিওর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তারা সেই একই প্রশ্নের মুখোমুখি যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অনেক মার্কিন প্রশাসনের সামনে এসেছে: একটি দেশ কি কেবল অবিরাম বোমাবর্ষণের মাধ্যমে অন্য দেশকে পুনর্গঠন করতে বা বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করতে পারে?

ক্যাটো ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি গবেষণার পরিচালক জাস্টিন লোগান বলেন, ‘এটি দারুণ হতো যদি কেবল দূর থেকে নিখুঁত বিমান হামলার মাধ্যমে আমরা অন্য দেশের রাজনীতিকে মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা পারি না। এই বিষয়ে আমেরিকানদের এক জেদ কাজ করে এবং আমরা বারবার একই শিক্ষা পাই।’

নিউইয়র্ক টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

ইরানে ‘বিজয়’ ঘোষণার পরও কেন অন্যদের সাহায্য চাচ্ছেন ট্রাম্প

কেন সারা বিশ্বের নজর এখন ইরানের খার্গ দ্বীপে

ইরানে ইরাক যুদ্ধের ছায়া, ট্রাম্প শিক্ষা নেবেন কি

সৌদির সাড়ে ৭০০ মাইলের পাইপলাইন কি হরমুজ প্রণালির বিকল্প হতে পারবে

প্রাকৃতিক দুর্গ ইরান কেন দুর্জেয়, স্থল অভিযানে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানি ‘শাহেদ’-এর নকল মার্কিন ‘লুকাস’, ড্রোন ব্যবসায় ট্রাম্প পরিবার

ইরানের খারগ দ্বীপে কী আছে, কেন ট্রাম্প সেখানে হামলা চালালেন

মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কৌশলে আক্রমণাত্মক মোড়

ইরান অভিযানের গোড়ায় গলদ, অন্ধকারে হাতড়াচ্ছেন ট্রাম্প

‘কাজ না করলে না খেয়ে মরব’—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন