মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের চাপ, দেশের ভেতরে শুল্কনীতি নিয়ে আইনি জটিলতা এবং জনপ্রিয়তায় ধস—এই তিন সংকটের মাঝেই চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, একসময় চীনের ওপর কঠোর বাণিজ্যচাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে উচ্চাভিলাষ ট্রাম্প দেখিয়েছিলেন, এখন তা অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে।
১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের লক্ষ্য এখন মূলত কিছু বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং ইরান ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা অর্জন করা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এবার চীনের চেয়ে ট্রাম্পের প্রয়োজনই বেশি।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, ‘ট্রাম্প এখন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সাফল্য চান, যা দেখাবে তিনি শুধু বিশ্বরাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করছেন না, বরং স্থিতিশীলতাও আনতে চান।’
গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর অত্যন্ত উচ্চহারের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। এর ফল হিসেবে বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি শিথিল করেছিল বেইজিং। তবে এরপর থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল আরও শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পকে একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে আদালতে শুল্কবিরোধী রায়, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব। রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী—ইরান যুদ্ধ নিয়ে ৬০ শতাংশের বেশি মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করছেন।
বেইজিং সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবেন টেসলার ইলন মাস্ক ও অ্যাপলের টিম কুকের মতো শীর্ষ করপোরেট প্রধানেরা। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় এবার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ছোট। বৈঠকে কৃষিপণ্য, গরুর মাংস ও বোয়িং উড়োজাহাজ রপ্তানি নিয়ে কিছু সমঝোতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে তাইওয়ান। চীন চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী অবস্থানকে আর উৎসাহ না দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের অবস্থানে সামান্য পরিবর্তনও এশিয়াজুড়ে মার্কিন মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
একই সঙ্গে চীন প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল ও ভবিষ্যতে নতুন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার নিশ্চয়তাও চাইছে। গত কয়েক মাসে বেইজিং নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়িয়েছে এবং বিরল খনিজ রপ্তানির লাইসেন্স ব্যবস্থা কঠোর করেছে।
ওয়াশিংটনের স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সেন্টারের বিশ্লেষক স্কট কেনেডির মতে, এই বৈঠকের সবচেয়ে সম্ভাব্য ফল হতে পারে একটি যুদ্ধবিরতি, যা শেষ পর্যন্ত চীনের পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক হবে।