কানাডায় এখন শীতের মৌসুম। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই জানিয়েছিল, কিংস্টনে ২০ মার্চ তুষারপাত হবে। হয়েছেও তাই। তারপরও দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এ দিন মুসলিম সম্প্রদায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং ধর্মীয় ভাব গাম্ভির্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেছেন।
ঈদ উপলক্ষে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছিলেন। এতে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের রমজান মাসে সমাজমুখী ও উদার সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি সমাজে শান্তি ও ঐক্য রক্ষায় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রশংসা করেন। তিনি রাজধানী অটোয়ার সাউথ নেপিয়ান মুসলিম কমিউনিটি মসজিদে এক ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও শান্তি কামনা করেন।
এদিকে অন্টারিওর প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড ঈদ উদ্যাপন উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তায় মুসলিম পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের সুখ ও শান্তি কামনা করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কবলে পড়া পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাদের সহমর্মিতা জানান।
টরন্টোর দক্ষিণ-পশ্চিম স্কারবরোর ফেডারেল পার্লামেন্ট সদস্য প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম ঈদ উপলক্ষে সবার শান্তি, আনন্দ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। কিংস্টন শহর ও পারিপার্শ্বিক এলাকার প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য ড. টেড স্যুও শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, শীত মৌসুমের প্রভাবে ২০ মার্চ কিংস্টনে ২-৪ সেন্টিমিটার তুষারপাত হতে পারে। বৈরী আবহাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে মসজিদসহ একাধিক ইনডোর মিলনায়তনে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়। কিংস্টন ইসলামিক কেন্দ্রে প্রথম জামায়াত হয় স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায়। পরে সকাল ৯টা ও সাড়ে ১০টায় আরও দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মূল নামাজে ইমামতি করেন ইমাম আবু বাক্কর মোল্লা। খুতবা শেষে ব্যক্তি, সমাজ ও মুসলিম উম্মাহের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
এ ছাড়া সিএফবি কিংস্টন মালটি-ফেইথ চ্যাপেলে, ক্রস-রোড চার্চ ও কুইন্স ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে তিনটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর মুসলিম সদস্যরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শিশু-কিশোরদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয় খেজুর-খোর্মা, চকলেট। বিকেলে কিংস্টন ইসলামিক সেন্টারে পট-লাক ডিনার এবং ইনডোর ইয়থ গেমসের আয়োজন ছিল।
এসব আয়োজন ছাড়াও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ঘরোয়া পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করেন। বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিবারগুলোয় রোজার শেষ দিকেই ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়। পরিকল্পনা করা হয় ঈদের দিনের খাবারের আয়োজন। পাশাপাশি পছন্দের পোশাক কেনা, মেহেদিতে হাত রাঙানো এবং গৃহসজ্জাও করা হয়।
কানাডায় ঈদের দিনটি সরকারি ছুটি নয়। ফলে অফিস-আদালত খোলা থাকে। এ কারণে দুপুরে ও রাতে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ঈদ আয়োজন করা হয়। খাবারের তালিকায় থাকে পোলাও, তেহারি, খিচুড়ি ও কাচ্চি বিরিয়ানি। হালিম, পাস্তা ও নুডলসও থাকে তালিকায়। সেমাই, পায়েস, ফিরনি, জর্দা, ফালুদা ও ঘরে তৈরি ছানার বাহারি মিষ্টি ঈদ আনন্দকে আরও জমিয়ে তোলে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং পারিপার্শ্বিক সাংস্কৃতিক অভিযোজনে কানাডায় বসবাসরত বাঙালির খাদ্যতালিকায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের খাদ্যতালিকায় যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মিষ্টান্ন। এর মধ্যে কোনাফা, বাকলাভা, মামুনিয়া পুডিং অন্যতম।