আমি একজন শিল্পী। বিভিন্ন ইলাস্ট্রেশনের কাজ করি। আমি সাধারণত অনলাইনে নানা মাধ্যমে প্রকাশিত গল্পের অলংকরণের কাজ করেছি বেশি। তবে আমার আঁকা ছবিগুলোর স্বত্ব নিয়ে বিভিন্ন ঝামেলায় পড়তে হয়। এর আগেও সমস্যায় পড়েছি। সব সময় মিউচুয়াল করতে হয়েছে। আমি এই সমস্যার সমাধান কীভাবে পেতে পারি? কাজটা তো আমি বন্ধ করতে চাই না। সে ক্ষেত্রে আইনি ধাপগুলো কীভাবে নিতে পারি?
মৌমিতা নূর, নীলফামারী
উত্তর: ইলাস্ট্রেশন কিংবা আর্টওয়ার্কের স্বত্ব নিয়ে ঝামেলা—এটা ফ্রিল্যান্স আর্টিস্টদের জন্য খুবই সাধারণ কিন্তু সিরিয়াস একটি বিষয়। আপনার কাজ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে এটাকে প্রফেশনালি ম্যানেজ করার কিছু উপায় রয়েছে, বিশেষ করে আইনের দিক থেকে।
জেনে নিন—
- নিজের কাজের কপিরাইট স্বত্ব বুঝে নিন। বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের নিয়ম অনুযায়ী আপনি কোনো শিল্প সৃষ্টি করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কপিরাইট আপনার। তবে প্রমাণ রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বিরোধ হলে। তাই কাজ করার সময় স্কেচ, লেয়ার ফাইল, টাইম স্ট্যাম্প সংরক্ষণ করুন এবং কাজের মূল ফাইল নিজের কাছে রাখুন।
- অফিশিয়াল কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করুন। যদিও বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করলে আপনার দাবিটা শক্ত হয়। এ জন্য সরাসরি অফিসে গিয়ে বা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। এতে কেউ আপনার কাজ কপি করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। আর আপনি প্রমাণও দেখাতে পারবেন যে কাজটা আপনার।
- প্রতিটি কাজের আগে লিখিত চুক্তি করুন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনেকে এড়িয়ে যায়। চুক্তিতে পরিষ্কার লিখুন, কাজের মালিকানা কার থাকবে, ক্লায়েন্ট শুধু ব্যবহার করার লাইসেন্স পাবে, নাকি সম্পূর্ণ অধিকার পাবে, কাজটি রিসেল বা অন্য জায়গায় ব্যবহার করতে পারবে কি না, ক্রেডিট দিতে হবে কি না। ‘মিউচুয়াল’ শব্দটি কথায় না রেখে লিখিত করুন।
- লাইসেন্সিং মডেল ব্যবহার করুন।
- সব কাজ ‘পূর্ণ বিক্রি’ না করে আপনি লাইসেন্স দিতে পারেন। উদাহরণ: ক্লায়েন্ট শুধু গল্পে ব্যবহার করবে, আপনি অন্য জায়গায় আবার ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আপনার কাজের মূল্য বাড়ে, নিয়ন্ত্রণও থাকে।
- শেয়ার করার সময় ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করুন।
- প্রিভিউ ইমেজে ওয়াটারমার্ক দিন। পুরো রেজল্যুশনের ফাইল আগে দেবেন না।
- পেমেন্ট ও ডেলিভারি স্ট্রাকচার ঠিক করুন। ৫০ শতাংশ অগ্রিম নিন। পুরো টাকা না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফাইল দেবেন না।
কেউ যদি কপি করে, তাহলে যা করবেন
স্ক্রিনশটসহ প্রমাণ সংগ্রহ করে নিন। ই-মেইল কিংবা মেসেজে একটা নোটিশ করে রাখুন। তারপর প্রয়োজনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আওতায় কোনো আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে নিন। ‘সিজ অ্যান্ড ডেসিস্ট’ লেটার পাঠাতে পারেন। চরম ক্ষেত্রে কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলা করতে পারবেন।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করলে প্ল্যাটফর্মের কপিরাইট রিপোর্ট সিস্টেম ব্যবহার করুন। যেমন ডিএমসিএ টেকডাউন।
এ ছাড়া কাজের ক্ষেত্রে সুরক্ষিত থাকতে হলে মিউচুয়ালের পাশাপাশি ডকুমেন্টেশন, চুক্তিপত্র—এসবের দিকেও আপনার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন: ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট