২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি। সিতি আমিরাহ মোহাম্মদ আসররি, কোকিলা আন্নামালাই ও মোসাম্মৎ সাবিকুন নাহার নামে তিন অধিকারকর্মী গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় অভিমুখে একটি পদযাত্রা আয়োজন করেন। এ অভিযোগে এই তিন নারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কারণ, সিঙ্গাপুরে প্রকাশ্য বিক্ষোভ বা সমাবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধসংশ্লিষ্ট সব ধরনের জনসমাবেশ কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই মামলায় গত বছরের অক্টোবরে দেশটির নিম্ন আদালত তাঁদের খালাস করে দিলেও এবার হাইকোর্টের রায়ে জরিমানার মুখোমুখি হলেন তাঁরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এই দণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বদলে দিয়ে তাঁদের প্রত্যেককে তিন হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা) জরিমানা করেন।
মোসাম্মৎ সাবিকুন নাহার, সিতি আমিরাহ মোহাম্মদ আসররি ও কোকিলা আন্নামালাইয়ের নেতৃত্বে প্রায় ৭০ জন মানুষ একটি শপিং মল থেকে ওই পদযাত্রা শুরু করেছিলেন প্রেসিডেন্সিয়াল কমপাউন্ডের দিকে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পৌঁছে দেওয়া, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ওই পদযাত্রার ছবিতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা তরমুজের ছবি আঁকা ছাতা বহন করছেন, যা বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনি সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় পদযাত্রা আয়োজনের অভিযোগে ২০২৪ সালের জুনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
বিচার চলাকালীন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, ওই নারীরা জনপথ দিয়ে হেঁটেছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ভবনের পাশের ওই পথটি যে নিষিদ্ধ এলাকা ছিল, তা তাঁদের জানা ছিল না। নিম্ন আদালতের বিচারক তখন তাঁদের খালাস দিয়ে বলেছিলেন, তথ্যপ্রমাণ বলছে তাঁরা ‘আইন না ভাঙার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করেছিলেন।
খালাসের পর আন্নামালাই বিবিসিকে বলেছিলেন, এই রায় সিঙ্গাপুরের অধিকারকর্মীদের জন্য ‘নতুন উদ্দীপনা ও আশা’ জোগাবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার সেই রায় বাতিল করে দিয়ে হাইকোর্টের বিচারক বলেন, পদযাত্রাটি বৈধ কি না, সে বিষয়ে তাঁদের আরও বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল।
দণ্ড পাওয়ার পর আন্নামালাই বিবিসিকে বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে গণতন্ত্রায়ণের লড়াই অনেক দীর্ঘ এবং নাগরিক অবাধ্যতামূলক কর্মকাণ্ডের এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ সিঙ্গাপুরিদের চিঠি পৌঁছে দিতে ইস্তানা (প্রেসিডেন্ট ভবন) অভিমুখে হেঁটে যাওয়ার অধিকার আমাদের থাকা উচিত।’
সিঙ্গাপুর সরকারের দাবি, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেই সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রে এমন কঠোর নিয়ম প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের মতে, এসব নিয়ম নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে।