বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা। ১৯২৯ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পশারিণী’ প্রকাশিত হয়। কোনো মুসলিম নারী কবির লেখা এটিই প্রথম আধুনিক কাব্যগ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘মন ও মৃত্তিকা’ এবং ‘অরণ্য মর্মর’।
মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, সহজ-সরল ভাষা এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ। তিনি কোনো জটিল কৃত্রিমতা ছাড়াই মানুষের আবেগ ও গ্রামীণ সৌন্দর্যকে কবিতায় ফুটিয়ে তুলতেন। তাঁর লেখায় সমসাময়িক সমাজ আর মানবিকতা স্থান পেয়েছে। তিনি মূলত একজন গীতিকবি ছিলেন। তাঁর গদ্যের বইয়ের নাম ‘অরণ্য মর্মর’।
মাহমুদা খাতুনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। আকৈশোর ছবি আঁকার প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। পরবর্তীকালে তিনি স্বাস্থ্যরক্ষা ও রন্ধনশিক্ষায় ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পারিবারিক পরিবেশ ছিল তাঁর সাহিত্যচর্চার অনুকূলে। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন তাঁর গৃহশিক্ষক।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৭ সালে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন। এ ছাড়া ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। বাংলা কবিতায় নারী জাগরণের সূচনাপর্বে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাহমুদার জন্ম ১৯০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর, পাবনা জেলায়। ১৯৭৭ সালের ২ মে ঢাকায় এই গুণী কবির মৃত্যু হয়।