শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের একসঙ্গে বসে খাওয়ার অধিকার আদায় করার একটি সফল ক্যাম্পেইন ‘লাঞ্চ কাউন্টার সিট-ইন’। ডায়ান ন্যাশ সেই ঐতিহাসিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রথমবারের মতো সার্থকভাবে এটি লাঞ্চ কাউন্টারগুলোতে বর্ণবৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে দিয়েছিল। আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে কিছু নাম আছে, যাঁরা ছিলেন আন্দোলনের মূল মস্তিষ্ক বা রণকৌশলী। তাঁদের মধ্যে একজন ডায়ান।
সময়টা ১৯৬০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনসবোরোর উলওর্থ স্টোরের ক্যানটিনে চারজন কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী বসে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। সে সময়ে ক্যানটিন বা লাঞ্চ কাউন্টারগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গদের খাবার পরিবেশন করা হতো না। অথচ শ্বেতাঙ্গরা সেখানে খেতে পারতেন। এই বর্ণবাদী নীতির প্রতিবাদে এবং সমান অধিকার আদায় করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা কাউন্টারে বসে থাকতেন। খাবার না দেওয়া পর্যন্ত উঠে যেতেন না।
মাত্র ২২ বছর বয়সে ডায়ান ন্যাশ ন্যাশভিলের ‘সিট-ইন’ আন্দোলনের নেত্রী হয়ে ওঠেন। তরুণ এবং কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত এই আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন। এই আন্দোলন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে দ্রুততম সময়ে আমেরিকার ৬৯টি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬০ সালের ১৭ মার্চ, ন্যাশসহ চারজন শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো পোস্ট হাউস রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার অধিকার ফিরে পান।
‘লাঞ্চ কাউন্টার সিট-ইন’ আন্দোলন সফল করার পর শিক্ষার্থীদের একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী কাঠামো দেওয়ার জন্য ডায়ান ন্যাশ স্টুডেন্ট নন-ভায়োলেন্ট কো-অর্ডিনেটিং কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন।