বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত ইলন মাস্ক প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি সবার আগেই ট্রিলিয়ন ডলারের (১০০০ বিলিয়ন) মালিক হবেন। কিন্তু তাঁর আগেই কি না ৬৩ ‘কোয়াড্রিলিয়ন’ পাউন্ডের (৮০ কোয়াড্রিলিয়ন ডলারের বেশি) মালিক হয়ে গেলেন অখ্যাত এক নারী!
বলে রাখা ভালো—এক ‘কোয়াড্রিলিয়ন’ সমান ১ হাজার ট্রিলিয়ন বা ১০ লাখ বিলিয়নের সমান। এই সংখ্যাটি অঙ্কে লিখতে একের পর অন্তত ১৫টি শূন্য লিখতে হয়। প্রশ্ন উঠতে পারে—বিলিয়ন নয়, ট্রিলিয়ন নয়, এক লাফে কীভাবে কোয়াড্রিলিয়ন পাউন্ডের মালিক হয়ে গেলেন ওই নারী।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড ‘দ্য মেট্রো’ জানিয়েছে, মূলত কফি কিনতে গিয়েই এক মুহূর্তের জন্য ‘বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী’ হয়ে ওঠেন ২৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সোফি ডাউনিং। যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম শহরের একটি ক্যাফেতে মাত্র ১০ পাউন্ডের গিফট কার্ড দিয়ে ‘ম্যাচা-লাতে’ কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। কার্ড থেকে কফির দাম কেটে নেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থের ঘরটিতে বিপুল অঙ্ক দেখে সোফির জ্ঞান হারাবার দশা হয়—যা ছিল ৬৩ কোয়াড্রিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।
ঘটনাটি ঘটেছে ‘টু-হান্ড্রেড ডিগ্রিস’ নামের একটি কফি শপে। সোফি জানান, তিনি যখন বিল পরিশোধের পর রসিদটি হাতে পান, সেখানে দেখা যায় তাঁর গিফট কার্ডে অবশিষ্ট রয়েছে ৬৩ কোয়াড্রিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি। অস্বাভাবিক এই অঙ্ক দেখে ক্যাফের কর্মীরাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
পরে জানা যায়, এটি ছিল একটি ‘প্রশাসনিক ত্রুটি’। গিফট কার্ডের প্রকৃত অবশিষ্ট অর্থের বদলে ভুলবশত কার্ডের নম্বরটিই ওই ঘরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে রসিদে বিপুল অঙ্কের অর্থ অবশিষ্ট দেখা যায়।
সোফি বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস করে বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী হওয়ার আনন্দ উপভোগ করছি।’ তিনি জানান, ঘটনাটি বেশ মজার মনে হলেও এই ভুলের সুযোগ নেওয়ার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই।
বাস্তবে সোফির কার্ডে অবশিষ্ট ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৮৫ পাউন্ড, যা দিয়ে তিনি আরেকটি পানীয় কিনে নেন। মজা করে তিনি বলেন, ‘এত বড় অঙ্কের গিফট কার্ড যদি সুপারমার্কেটে ব্যবহার করা যেত।’
এই বিষয়ে ‘টু-হান্ড্রেড ডিগ্রিস’ কফি শপের এক মুখপাত্র জানান, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ভুলের কারণেই গিফট কার্ড নম্বরটি ভুল জায়গায় এন্ট্রি হয়েছিল। তবে গ্রাহকের কাছ থেকে সঠিক মূল্যই কাটা হয়েছে এবং ক্রয় শেষে তাঁর কার্ডে প্রকৃত অবশিষ্ট অর্থ ঠিকভাবেই ছিল।