২০২৬ সাল শুরু হতেই নস্ত্রাদামুসের অনুসারীরা এই বছরকে ঘিরে নতুন কিছু ভয়াবহ ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করেছেন। ১৫০০ শতকে জন্ম নেওয়া ফরাসি জ্যোতিষী এবং চিকিৎসক মিশেল দ্য নস্ত্রাদোম (নস্ত্রাদামুস) অ্যাডলফ হিটলারের উত্থান, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো আধুনিক যুগের অনেক যুগান্তকারী ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।
১৫৫৫ সালে প্রকাশিত তাঁর বই ’লে প্রফেসিস’ ৯৪২টি কাব্যিক চতুষ্পদীর জন্য বিখ্যাত, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যদিও নস্ত্রাদামুসের মূল লেখায় সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই, তবে ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের দাবি—তাঁর কাজের ২৬ নম্বর চতুষ্পদীগুলো সরাসরি ২০২৬ সালের ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। ২০২৫ সালের জন্য নস্ত্রাদামুস রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান, পৃথিবীতে গ্রহাণুর আঘাত, ব্রাজিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ‘প্রাচীন প্লেগের’ প্রাদুর্ভাবের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
নস্ত্রাদামুসের অস্পষ্ট লেখনী অনুযায়ী, চলতি বছর একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি ‘বজ্রপাতে’ প্রাণ হারাতে পারেন। তাঁর বইয়ের প্রথম সেঞ্চুরির ২৬ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে—‘দিনের বেলা এক মহান ব্যক্তি বজ্রপাতে ভূপাতিত হবেন।’ যারা নস্ত্রাদামুসের লেখা অনুসরণ করেন, তাঁদের বিশ্বাস—এটি কোনো বিশিষ্ট পুরুষ ব্যক্তিত্বের হত্যাকাণ্ড অথবা রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা কোনো শাসনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
২০২৬ সালের সঙ্গে যুক্ত একটি ভৌগোলিক ভবিষ্যদ্বাণীতে এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা সতর্ক করেছেন, সুইজারল্যান্ডের টিচিনো (Ticino) অঞ্চল কোনো একটি ‘আনুকূল্য’ প্রদর্শনের পর ‘রক্তে ভেসে যাবে।’ ইংরেজি অনুবাদ অনুযায়ী ফরাসি শ্লোকটি হলো, ‘শহরটি যে আনুকূল্য দেখাবে তার কারণে...টিচিনো রক্তে প্লাবিত হবে।’ টিচিনো হলো দক্ষিণ সুইজারল্যান্ডের ইতালীয় ভাষাভাষী একটি অঞ্চল, যা শান্ত হ্রদ এবং হিমবাহের জন্য পরিচিত। ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ হওয়া সত্ত্বেও ১৬ শতাব্দীর এই শ্লোকটি ইউরোপে নতুন কোনো সংঘাত বা প্রতিবেশী ইতালির সঙ্গে উত্তেজনার ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ইন্ধন জোগাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে টিচিনো থেকে প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দূরে সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট ক্র্যানস-মন্টানার একটি বার বিধ্বংসী আগুনে ধ্বংস হয়ে যায়। এতে ৪০ মানুষের মৃত্যু এবং ১০০ জন আহত হয়। এই ঘটনাটি ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদদের নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে।
নস্ত্রাদামুসের আরেকটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী হলো, ‘মৌমাছির বিশাল ঝাঁক জেগে উঠবে... রাতে হবে অতর্কিত হামলা...।’ এটি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। কিছু ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মৌমাছি এখানে পতঙ্গ নয়, বরং রাজনীতি এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিউইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, যেহেতু কালো রং পোকামাকড় এবং ফ্যাসিস্ট উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, তাই ২০২৬ সালে সমগ্রতাবাদী বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জয়ী হতে পারে।
আরেকটি নির্দিষ্ট শ্লোকে বলা হয়েছে, সাত মাসব্যাপী মহাযুদ্ধ, অশুভ শক্তির কারণে মানুষের মৃত্যু/রুয়ান, এভরেক্স—রাজা ব্যর্থ হবেন না।’ এটি সাত মাসব্যাপী বৈশ্বিক সংঘাতের উল্লেখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই চতুষ্পদীটি দুজন বিশ্বনেতার মধ্যে এমন এক সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যাঁরা নিজেদের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত এবং কেউ পিছু হটতে রাজি নন।
নস্ত্রাদামুসের সপ্তম সেঞ্চুরির ২৬ নম্বর চতুষ্পদীতে বলা হয়েছে, ‘সাতটি জাহাজের চারপাশে ফয়েস্ট (একধরনের নৌকা) এবং গ্যালি, একটি মারাত্মক যুদ্ধ শুরু হবে।’ এর ফলে একটি নৌ-যুদ্ধের তত্ত্ব জোরালো হচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধের কারণে চীন এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যদ্বাণীতে উল্লিখিত ‘সাতটি জাহাজ’ হতে পারে চীন, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নস্ত্রাদামুসের এমন হতাশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মূলে ছিল ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রভাব এবং অসুস্থতায় (সম্ভবত প্লেগ) নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের হারানোর ট্রমা। প্রিয়জনকে বাঁচাতে না পেরে তিনি হয়তো মানবজাতির ওপর নেমে আসা সম্ভাব্য সব দুর্যোগের ভবিষ্যদ্বাণী করার মধ্যেই সান্ত্বনা খুঁজেছিলেন।