বেলজিয়ামের এক শান্ত গ্রাম জিঞ্জেম। গত শুক্রবার রাত পর্যন্তও গ্রামটি ছিল আর দশটা সাধারণ ইউরোপীয় জনপদের মতো। কিন্তু একটি লটারির টিকিট রাতারাতি এই গ্রামের ২১ জন বন্ধুর ভাগ্য বদলে দিয়েছে। ‘ইউরোমিলিয়নস’ জ্যাকপটে ১২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার) জিতে এখন তাঁরা গোটা বিশ্বের সংবাদ শিরোনামে।
জ্যাকপটের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ২১ জন বন্ধুর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। ফলে প্রত্যেকের পকেটে ঢুকবে প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৮৪ কোটি টাকার বেশি)। এই বন্ধুদের দলে যেমন আছেন পেনশনভোগী বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, তেমনি আছেন খেটে খাওয়া মানুষও।
বিজয়ীদের মধ্যে অন্যতম মারিয়ান নামে এক পেনশনভোগী। স্থানীয় যে বেকারি থেকে টিকিটটি কেনা হয়েছিল, সেটির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। মারিয়ান বলেন, ‘৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ইউরো! এটা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। যখন জানতে পারলাম আমরা জিতেছি, আমি কাঁপছিলাম, কাঁদছিলাম। আমার স্বামীর দিকে তাকিয়ে শুধু বলছিলাম—এ কী হচ্ছে!’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে প্রতিজ্ঞা করেছি, আমরা এই টাকা নিয়ে কোনো পাগলামি করব না, বরং বিচক্ষণতার পরিচয় দেব। এই টাকা আমার সন্তানদের এবং নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে, এটাই আমার কাছে বড় শান্তি।’
খবরটি পাওয়ার পর বিজয়ীরা আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। শুক্রবার রাতেই গ্রামের এক ক্যাফেতে মিলিত হন তাঁরা। সেখানে শ্যাম্পেন আর আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। ক্যাফেতে ঢোকার সময় তাদের জন্য আগে থেকেই শ্যাম্পেনের গ্লাস সাজানো ছিল। সারা রাত হাসি-ঠাট্টা আর জল্পনা-কল্পনায় কাটে এই নব্য কোটিপতিদের।
এই অবিশ্বাস্য জয়ের পেছনে কোনো বিশেষ কৌশল বা হিসাব ছিল না। টিকিট বিক্রেতা রেডজি টেরউই জানান, শুক্রবার সকালে ওই বন্ধুদের দলটি তাঁর কাছে এসে ১০৫ ইউরো দিয়ে একটি ‘কুইক পিক’ টিকিট চেয়েছিল। কুইক পিক হলো এমন একটি সিস্টেম যেখানে কম্পিউটার নিজ থেকেই র্যান্ডম নম্বর বেছে নেয়। রেডজি বলেন, ‘ব্যস, ওইটুকুই ছিল কাজ। আর তাতেই তারা কেল্লাফতে করে দিল!’
১২ কোটি ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৭ ইউরোর এই জ্যাকপট বেলজিয়ামের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ লটারি। এর আগে ২০১৬ সালে এক লটারি বিজয়ী ১৬৮ মিলিয়ন ইউরো জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে জিঞ্জেমের এই ২১ বন্ধুর দলগত জয় গ্রামবাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বর্তমানে পুরো জিঞ্জেম গ্রাম জুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। সবার মুখে এখন একটাই কথা—ভাগ্য সহায় থাকলে সাধারণ মানুষও যে রূপকথার রাজপুত্র হয়ে উঠতে পারে, এই ২১ বন্ধু তার জীবন্ত প্রমাণ।
তথ্যসূত্র: এএফপি