ইতালিতে এক ভিন্নধর্মী ‘স্পাইডার-ম্যান’ এখন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি কোনো সিনেমার চরিত্র নন, বরং বাস্তব জীবনের এক মানবিক নায়ক। ৩২ বছর বয়সী ম্যাটিয়া ভিলারদিতা পেশায় একজন ডক শ্রমিক। তবে অবসর সময়ে তিনি স্পাইডার-ম্যানের পোশাক পরে অসুস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফোটান।
ভিলারদিতাকে নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৈশবে তাঁকেও দীর্ঘদিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল। জন্মগত শারীরিক সমস্যার কারণে বহুবার তাঁর অস্ত্রোপচার করাতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—যে হাসপাতালগুলো তাকে বাঁচিয়েছে, সেখানকার শিশুদের জন্য কিছু করবেন।
এরপর থেকেই শুরু ভিলারদিতার এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। তিনি নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ, প্রতিবন্ধী বা মৃত্যুপথযাত্রী শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। স্পাইডার-ম্যান সেজে তাদের সঙ্গে কথা বলেন, খেলা করেন। এভাবেই কঠিন জীবনের মধ্যেও শিশুদের মনে একটু আনন্দ এনে দেন তিনি।
এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে ইতালির প্রেসিডেন্ট তাঁকে দেশের অন্যতম উচ্চ সম্মাননা ‘ক্যাভালিয়েরে দেল্লা রিপাবলিকা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এমনকি ২০২১ সালে তিনি ভ্যাটিকানে গিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
ভিলারদিতা শুধু ইতালিতেই থেমে থাকেননি। তিনি তানজানিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে হাসপাতাল ও এতিমখানায় শিশুদের জন্য কাজ করেছেন। নিজের সময় ও অর্থ ব্যয় করে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তবে এই পথ সহজ নয়। অনেক শিশুকে হারানোর বেদনা তাঁকে খুব কষ্ট দেয়। তবুও থামেন না। তিনি মনে করেন, একটি শিশুর হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।