চীনে এ বছরের বসন্ত উৎসব উদ্যাপনের মধ্যে মহাকাশ থেকে এসেছে ব্যতিক্রমী সুখবর। শেনচৌ-২১ মিশনের নভোচারীরা থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনে সফলভাবে চাষ করেছেন টমেটো। ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে দেখা হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই।
চায়না মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশিত ভিডিওতে নভোচারী চাং হোংচাং মহাকাশ স্টেশনের ভেতরের একটি অংশকে ‘হিলিং কর্নার’ বলে উল্লেখ করেন, যেখানে টমেটো গাছগুলো সতেজভাবে বেড়ে উঠছে। এই ‘স্পেস ভেজিটেবল গার্ডেন’ প্রমাণ করেছে, পৃথিবীর বাইরেও টেকসই উদ্ভিদের জীবন সম্ভব।
এই গাছগুলো বেড়ে উঠেছে বিশেষ অ্যারোপনিক চাষ ব্যবস্থায়। এটি তৈরি করেছে চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের গবেষকেরা। পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য এতে পানিকে সূক্ষ্ম কণায় রূপান্তর করে গাছের শিকড়ে সরবরাহ করা হয়; পাশাপাশি বিশেষভাবে নকশা করা এলইডি আলোর স্পেকট্রাম শক্তি উদ্ভিদের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।
যন্ত্রটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে থিয়ানচৌ-৯ কার্গো মহাকাশযানে করে স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল।
নভোচারী উ ফেই বলেন, পাকা টমেটোর দৃশ্য এবং হালকা সুগন্ধটাও তাঁদের জন্য বিশেষ আনন্দের উৎস। প্রতিদিন তাঁরা গাছের যত্ন নেন এবং তথ্য সংগ্রহ করেন।
এই গবেষণা শুধু ফল কিংবা সবজি উৎপাদন নয়, বরং মহাকাশে উদ্ভিদের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল পুনর্গঠন বা উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নভোচারীদের যত্নের পদ্ধতি উন্নত করতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এখানে গম, গাজর এবং ঔষধি গাছের পরীক্ষামূলক চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নভোচারী চাং লু জানান, মহাশূন্যের বিশাল শূন্যতার মাঝে সবুজের উপস্থিতি তাঁদের মানসিকভাবে শক্তি জোগায় এবং পরবর্তী বৈজ্ঞানিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর উৎক্ষেপণের পর শেনচৌ-২১ মিশনের মহাকাশযাত্রা এরই মধ্যে ১০০ দিনের বেশি সময় অতিক্রম করেছে। এর সব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে জানিয়েছে চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সি।
তথ্যসূত্র: সিসিটিভি