বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স জানিয়েছে, ভুয়া চাকরির সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের এক কর্মীর কম্পিউটারে প্রবেশাধিকার নেয় হ্যাকাররা। পরে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির একটি টুল ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করা হয়। ঘটনাটিকে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক চুরির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বাইন্যান্স জানিয়েছে, গত জুনে কোডিংয়ের একটি টুলের পরিবর্তিত সংস্করণ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই সাইবার হামলার সূত্রপাত হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে হ্যাকাররা। গত ২৯ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তবে পিয়ংইয়ং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বাইন্যান্স জানিয়েছে, এই সাইবার হামলায় যেসব গ্রাহক অর্থ হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে বাইন্যান্সের ওয়ালেট উন্নয়ন দলের এক কর্মী একটি পরিবর্তিত এআই টুল নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করেন। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ওই কম্পিউটার পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত তথ্য (ক্রেডেনশিয়াল) হালনাগাদ করে। তবে ততক্ষণে ওই কর্মীসহ ওয়ালেট দলের অন্য সদস্যদের ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য পেয়ে যায় হ্যাকাররা।
এরপর গত সেপ্টেম্বরে চাকরি খুঁজছিলেন এমন আরও এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী একটি ভুয়া চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। সাক্ষাৎকারটি এতটাই বিশ্বাসযোগ্য ছিল যে, তিনি একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও করেন। পরে ওই চাকরিপ্রার্থী নিজের কম্পিউটারে একটি ক্ষতিকর কোড রিপোজিটরি ডাউনলোড করেন। এর মাধ্যমে তাঁর কম্পিউটারেও অনুপ্রবেশের সুযোগ পায় হ্যাকাররা।
এভাবে গত ২০ অক্টোবর আক্রান্ত কম্পিউটার ও বাইন্যান্সের অভ্যন্তরীণ একটি এআই টুল ব্যবহার করে ওয়ালেট উন্নয়ন দলের একজন কর্মীর সিস্টেমের পাশাপাশি একই দলের আরেক কর্মীর সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেয় হামলাকারীরা।
অবশেষে গত ২৯ অক্টোবর প্রথম কর্মীর চুরি করা প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে দ্বিতীয় কর্মীর কম্পিউটারের মাধ্যমে একটি ক্ষতিকর স্ক্রিপ্ট চালু করা হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বাইন্যান্স বলেছে, ‘এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটার কথা ছিল না। এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে আমাদের ব্যবহারকারী, অংশীদার এবং বৃহত্তর শিল্প খাতে যে উদ্বেগ, বিঘ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার জন্য আমরা দুঃখিত।’
এ ঘটনার পর এআই-নির্ভর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও হুমকি শনাক্তকরণে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি নিরাপত্তা গবেষণার জন্য একটি তহবিল গঠন ও শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশেষ নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়ার কাজও চলছে।