এআই এখন আর শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি ভূরাজনীতি এবং নিরাপত্তার অংশ। এখানে কাজ করছে একদিকে চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তা। সম্প্রতি বিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান স্যার ডেমিস হাসাবিস বলেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই হুমকি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেছেন, এই প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে সৃষ্ট প্রকৃত ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় শিল্প খাত এখন একটি স্মার্ট রেগুলেশন বা বুদ্ধিবৃত্তিক নীতিমালা চাইছে।
শুধু তা-ই নয়, সম্প্রতি শেষ হওয়া দিল্লির এই সামিটে অনেক প্রযুক্তি নেতা এবং রাজনীতিবিদ দাবি তুলেছেন, এআই-কে কোনো একটি দেশের ওপর ছেড়ে না দিয়ে একটি বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসা উচিত। এদিকে সবাই যখন নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তখন এর বিরোধিতা করছে। হোয়াইট হাউসের প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওস পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাঁরা এআইর ওপর এই ধরনের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ চান না।
দিল্লিতে শেষ হওয়া এই সামিটে বিশ্বনেতাদের মধ্যে দুটি স্পষ্ট মেরুকরণ দেখা গেছে। নীতিমালার পক্ষে যুক্তরাজ্য, ভারত ও অন্যান্য দেশ। ব্রিটিশ উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এআই নিরাপত্তার জন্য দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁদের মতে, জনকল্যাণের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রথম শর্ত। অন্যদিকে নীতিমালার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাইকেল ক্র্যাটসিওস বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।