মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা কর্মীদের কম্পিউটারে নতুন এক ধরনের ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ইনস্টল করছে। এর মাধ্যমে কর্মীদের মাউসের নড়াচড়া, ক্লিক এবং কি-বোর্ডের প্রতিটি কি-স্ট্রোক রেকর্ড করা হবে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলকে মানুষের কাজের ধরন শেখানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বার্তা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মেটার অভ্যন্তরীণ মেমো অনুযায়ী, ‘মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ’ (এমসিআই) নামক এই টুলটি কর্মীদের কাজের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে সচল থাকবে। এটি মাঝে মাঝে কর্মীদের স্ক্রিনের স্ন্যাপশট বা ছবিও তুলে রাখবে। মেটার দাবি, মানুষ যেভাবে কম্পিউটারের ড্রপডাউন মেনু ব্যবহার করে বা কি-বোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে কাজ সম্পাদন করে, তা এআই মডেলগুলোকে নিখুঁতভাবে শেখাতেই এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ কর্মীদের জানান, মেটা এখন ‘এজেন্ট ট্রান্সফরমেশন এক্সিলারেটর’ (এটিএ) নামক প্রকল্পের মাধ্যমে এমন এক ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছে যেখানে এআই এজেন্টরাই মূলত সব কাজ করবে এবং মানুষের ভূমিকা হবে কেবল সেগুলো তদারকি ও উন্নত করা।
মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন দাবি করেছেন, সংগৃহীত তথ্য কোনোভাবেই কর্মীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে না। সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে মেটার এই পদক্ষেপ সিলিকন ভ্যালিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত কয়েক মাসে মেটা তাদের বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে এবং সামনে আরও বড় ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কর্মীদের কাজের ধরন এআই-কে শিখিয়ে প্রকারান্তরে তাদের কর্মসংস্থানকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ইফিয়োমা আজুনওয়া বলেন, কি-স্ট্রোক লগিং করার এই প্রক্রিয়াটি হোয়াইট কলার কর্মীদের ওপর এক ধরনের রিয়েল-টাইম নজরদারি। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পর্যায়ে কর্মী নজরদারির ওপর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
তবে ইউরোপীয় আইনের ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। জার্মানি ও ইতালির মতো দেশে ইলেকট্রনিক উপায়ে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ট্র্যাক করা বা কি-স্ট্রোক রেকর্ড করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার এই পদক্ষেপ ইউরোপের জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন-এর পরিপন্থী হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্বে যখন স্বয়ংক্রিয় কাজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে, তখন মেটার এই ‘ডেটা কালেকশন’ উদ্যোগ কর্মক্ষেত্রে মানুষের গোপনীয়তা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।