হোম > প্রযুক্তি

চিন্তা আর ব্যক্তিগত থাকবে না, আসছে প্রযুক্তি

ফিচার ডেস্ক

মানুষের মস্তিষ্কের ভেতরে প্রতি মুহূর্তে বিদ্যুৎ তরঙ্গের যে খেলা চলে, তাকে বাগে আনা খুব সহজ কাজ নয়। বিজ্ঞানীরা এই তরঙ্গকে ডিকোড ও তা পাঠোদ্ধার করা একসময় অসম্ভব বলে মনে করতেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন সেই অসম্ভবকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।

কল্পবিজ্ঞান সিনেমার মতো মনে হলেও বিজ্ঞানীরা এখন মানুষের চিন্তা বা মনের ভাব সরাসরি কম্পিউটারের পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন। মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের এই সেতুবন্ধনকে বলা হয় ‘ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস’। ১৯৬৯ সালে এই প্রযুক্তির প্রাথমিক গবেষণা শুরু হলেও মানুষের কথা কিংবা চিন্তার পাঠোদ্ধার করা ছিল অত্যন্ত জটিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই-এর মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম এই বাধা দূর করেছে। স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট আমাজনের অ্যালেক্সা যেভাবে শব্দ শুনে কাজ করে, এই এআই ঠিক সেভাবেই নিউরনের সংকেত বিশ্লেষণ করে মানুষের মনের কথা বুঝে নিতে সক্ষম।

১৯ বছর আগে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারে ৫২ বছর বয়সী এক নারীর মনে মনে বলা শব্দগুলো সামনের স্ক্রিনে ফুটে উঠছিল। তাঁর মস্তিষ্কের সম্মুখভাগে বসানো ছিল একটি অতি ক্ষুদ্র ইলেকট্রোড অ্যারে। এটি নিউরনের সংকেতগুলো গ্রহণ করে। তারপর একটি শক্তিশালী এআই সিস্টেম সেই সংকেতগুলো পাঠযোগ্য টেক্সটে রূপান্তর করছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে উন্মোচিত এই সাফল্য বিজ্ঞানীদের ‘মাইন্ড রিডিং’ বা মন পড়ার খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে।

এর ঠিক কয়েক মাস পরেই জাপানের গবেষকেরা ‘মাইন্ড ক্যাপশনিং’ নামক এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি যা দেখছেন বা কল্পনা করছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ তৈরি করা যায়। আগের প্রযুক্তিতে কথা বলার জন্য শারীরিক চেষ্টা করার প্রয়োজন হতো। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ মনে মনে কিছু বললেও তা ধরা সম্ভব। যদিও এটি এখনো শতভাগ নির্ভুল

নয়, তবু এটি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা কথা বলতে অক্ষম রোগীদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। চিন্তা ছাড়াও আমরা যা দেখি অথবা শুনি, তা-ও এখন এআইয়ের মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। জাপানের নাগোয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা এফএমআরআই স্ক্যান ব্যবহার করে একজন মানুষের দেখা ছবিগুলো এআই দিয়ে পুনরায় তৈরি করতে পেরেছেন।

নিউরোলজিস্ট ও নিউরো-ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তিগুলো বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে। ইলন মাস্কের নিউরালিংক করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে এমন চিপ তৈরির কাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে চিকিৎসা, স্বপ্ন দেখা ও ব্রেইন-টু-ব্রেইন কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রগুলোতে আমূল পরিবর্তন আনবে।

তবে বিশাল এই অগ্রগতির সঙ্গে কিছু প্রশ্নও উঠছে। মানুষের ব্যক্তিগত চিন্তা কি তবে আর ব্যক্তিগত থাকবে না? মস্তিষ্কে সরাসরি তথ্য পাঠানোর ফলে মানুষের স্বাধীনতা কি খর্ব হবে? এই প্রযুক্তিগুলো বাণিজ্যিকভাবে আসার আগে বিজ্ঞানীদের এখন এই নৈতিক ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

মানুষের মস্তিষ্ক এক রহস্যময় জগৎ, যার প্রতিটি নিউরন একটি মহাবিশ্বের মতো। এআই আজ সেই মহাবিশ্বের মানচিত্র তৈরি করছে। বিষয়টি হয়তো একদিন মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের ভাষাই বদলে দেবে। তবে এই পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে আমাদের আরও ১০ থেকে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

নানান কাজে এআই এজেন্ট

ইরান হামলায় যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই, বিতর্কে মার্কিন বাহিনী

চিরবিদায়ের অপেক্ষায় আরও দুটি কার্গো যান

হিউম্যানয়েড রোবটের বিশ্ববাজারে চীনের আধিপত্য

আরব আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজনের সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত

উবারে ভ্রমণ হবে আকাশেও

গুগল নিয়ে এল ‘ন্যানো বানানা ২’, ছবি তৈরি হবে আরও দ্রুত

এআই অটো জুম ক্যামেরার ফোন আনল অপো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় বাংলা: নতুন পৃথিবীর জন্য আমরা কি প্রস্তুত

কনটেন্ট বানিয়ে নিন অ্যালগরিদম বুঝে