নব্বইয়ের দশকে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপিত হলেও ১৯৯৭ সালে ভিডিও রিরাইট প্রোগ্রামে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। ২০১৪ সালে জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্ক (গান) ইয়ান গুডফেলোর উদ্ভাবনের হাত ধরেই আধুনিকীকরণ। তারপর বহু মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এই প্রযুক্তি। ২০১৭ সালে প্রযুক্তি বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত হয় এই ডিপফেক প্রযুক্তি, যাকে একনামে সবাই এখন চেনে।
ডিপফেক যেভাবে কাজ করে
ডিপ ও ফেক শব্দ দুটির অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজলেই পরিষ্কার হয়, গভীরভাবে নকল করা হয়েছে এমন ভিডিও বা অডিও তৈরিই ডিপফেকের কাজ। আপাতদৃষ্টে তা দেখলে মনেই হবে না তা নকল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা ভিডিওতে বিভিন্ন রকম রূপান্তর ঘটানো হয়, যা খালি চোখে যাচাই করা অসম্ভব। কেননা ১০০ মিলি সেকেন্ডের কম সময়ে ঘটে যাওয়া কোনো দৃশ্য মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয় না। ডিপফেকে ঠিক এই কাজই করে গান। এটি একজন মানুষের বিভিন্ন রকম অভিব্যক্তির অসংখ্য ছবি দিয়ে মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে মানুষটির সব ধরনের অভিব্যক্তির একটি সিমুলেশন তৈরি করে। একইভাবে মানুষটির কণ্ঠস্বরও হুবহু নকল করা হয়। তারপর অডিও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে তৈরি হয় নকল ভিডিও। শুধু অডিও বা ভিডিও নয়, টেক্সট-লাইভেও এখন ডিপফেক পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই প্রযুক্তির আসল কাজ
ডিপফেক প্রযুক্তি অসৎ কাজে বেশি ব্যবহৃত হলেও এই প্রযুক্তির বেশ কিছু ভালো দিক রয়েছে। বিশেষত বিনোদনশিল্পে এ প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেশি সহায়কের ভূমিকা পালন করে। যেমন ডাবিংয়ের মান উন্নত করতে, মৃত অভিনেতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে কিংবা জাদুঘর বা গ্যালারিকে প্রাণবন্ত করতে এর জুড়ি মেলা ভার।
ডিপফেক যাচাই
খালি চোখে ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা সম্ভব না হলে প্রযুক্তির সহায়তায় সেটি সম্ভব। এ জন্য বিভিন্ন টুল রয়েছে। ছবির জন্য ফটো মেটাডেটা বা ভিডিও মেটাডেটা টুলস কিংবা সাধারণ ভিডিওর জন্য ইনভিড বা ইউটিউব ডেটা ভিউয়ার ব্যবহার করে যাচাই করা যায়। তা ছাড়া ফেস ফরেনসিকস টুলও ব্যবহার করা যায় ডিপফেক প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও শনাক্ত করতে। এ ছাড়া বায়োমেট্রিকস ব্যবহার করেও এ প্রযুক্তির ভিডিও যাচাই করা যায়।
বর্তমান সময়ের আলোচিত-সমালোচিত ডিপফেক একটি প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তি। অসৎ কাজে এর ব্যবহার না বাড়িয়ে ভালো কাজে এর বহুল ব্যবহার ভবিষ্যতের বিশ্বকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার