সিলিকন ভ্যালিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত অ্যাপল হঠাৎ করে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় কর্মী-সংকটের সম্মুখীন। শীর্ষ নির্বাহী থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশলীরাও প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাচ্ছেন।
গত সপ্তাহে অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারফেস ডিজাইনের প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এরপর কোম্পানি ঘোষণা করে, তাদের জেনারেল কাউন্সেল ও সরকারি সম্পর্কবিষয়ক প্রধানও বিদায় নিচ্ছেন। এই চারজনই সরাসরি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুকের অধীনে কাজ করতেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে আরও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। হার্ডওয়্যার টেকনোলজির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অ্যাপলের অন্যতম সম্মানিত নির্বাহী জনি স্রুজি সম্প্রতি কুককে জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে কোম্পানি ছাড়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন তিনি। অ্যাপলের মূল্যবান চিপ উদ্যোগের নেপথ্য কারিগর স্রুজি সহকর্মীদের জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে অন্য কোম্পানিতে যোগ দেবেন।
এদিকে অ্যাপলের এআই কর্মীরা দল বেঁধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। মেটা প্ল্যাটফর্মস, ওপেনএআইসহ নানা স্টার্টআপ অ্যাপল ইঞ্জিনিয়ারদের টানছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে অ্যাপল এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
সব মিলিয়ে কুকের দায়িত্বকালে সবচেয়ে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে অ্যাপল। কুক শিগগির পদ ছাড়বেন, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে অ্যাপলকে তার টিম পুনর্গঠন করতে হবে এবং এআইয়ের যুগে টিকে থাকার পথ খুঁজে বের করতে হবে।
অ্যাপলের ভেতরে কিছু পদত্যাগ গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের আরও মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দিতে চাইছেন কুক। অন্যদিকে কিছু নির্বাহীর বিদায়কে দেখা হচ্ছে স্বাভাবিক অবসরের সময় ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। তবু এই পরিবর্তনগুলোকে একধরনের ‘উদ্বেগজনক মেধা পাচার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিইও অবশ্য দাবি করছেন, অ্যাপল তার ইতিহাসের সবচেয়ে উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি করছে, যার মধ্যে রয়েছে ভাঁজযোগ্য আইফোন ও আইপ্যাড, স্মার্ট গ্লাস এবং রোবট।
তবে প্রতিষ্ঠানটি গত এক দশকে সফল কোনো পণ্য বিভাগ খুলতে পারেনি। এই পরিস্থিতি অ্যাপলকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে দুর্বল করে দিচ্ছে, যারা এআই-নির্ভর পরবর্তী প্রজন্মের ডিভাইস তৈরি করতে বেশি সক্ষম।
ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোভিত্তিক অ্যাপলের এক মুখপাত্র এসব বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ