চীনা নববর্ষ মানেই ছুটি আর উৎসব। কিন্তু এই সময়কে কাজে লাগিয়ে নতুন এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে চীনের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। লক্ষ্য একটাই, কে আগে মানুষের নিত্যদিনের জীবনের সবচেয়ে কাছের এআই সহকারী হয়ে উঠতে পারে।
টেনসেন্ট, আলিবাবা, বাইটড্যান্স ও বাইতুর মতো জায়ান্টদের ধারণা, ২০২৬ সাল হবে সেই মোড় ঘোরানো সময়, যখন এআই আর নতুন প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য টুল হিসেবে ব্যবহার হবে।
এই দৌড়ে প্রথম বড় চাল দিয়েছে টেনসেন্ট। তারা ঘোষণা করেছে ১ বিলিয়ন ইউয়ানের উপহার কর্মসূচি। এআই-চালিত ‘ইউয়ানবাও’ অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত পুরস্কার জিততে পারছেন। এর প্রভাবে অ্যাপটি দ্রুতই অ্যাপলের চীনা অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে উঠে এসেছে।
আলিবাবাও পিছিয়ে নেই। তাদের এআই পণ্য ‘ছিয়ানওয়েন’ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করছে ৩ বিলিয়ন ইউয়ানের ফেস্টিভ্যাল ট্রিট। এই কর্মসূচির আওতায় পণ্য কেনা, খাবার অর্ডার, ভ্রমণ ও বিনোদনে দেওয়া হচ্ছে ভর্তুকি। সবই এআই-চালিত শপিং ইকোসিস্টেমের ভেতরে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের যুক্ত করা হচ্ছে হেলথকেয়ার এআই অ্যাপ ‘অ্যান্ট আফু’-এর সঙ্গে।
অন্যদিকে বাইটড্যান্স ও বাইতু চীনা নববর্ষের জনপ্রিয় টিভি গালার সঙ্গে যুক্ত করেছে এআই প্রচারণা, যাতে বিনোদনের মধ্যে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ব্যবহার তুলে ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য শুধু ব্যবহারকারী বাড়ানো নয়। সবাই চাইছে এমন একটি এআই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে, যেটি হবে ব্যবহারকারীর সব ডিজিটাল কাজের কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ফোনের ভেতরের এআই এজেন্ট আলাদা করে অ্যাপ খোলার প্রয়োজন কমিয়ে দেবে। ব্যবহারকারীর নির্দেশ পেলে এআই নিজে থেকে সিনেমার টিকিট বুক করা বা পেমেন্ট সম্পন্নের মতো কাজ করে দেবে।
তবে সব ব্যবহারকারীর জন্য একধরনের এআই সেবা নয়; এমনটাই মনে করেন টেনসেন্টের সিইও পনি মা। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত চাহিদা ও গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি ইকোসিস্টেমই ভবিষ্যৎ।
এ কারণে চীনের টেক জায়ান্টরা এআইকে ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। যেমন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইন কেনাকাটা কিংবা লাইভ কমার্সে ডিজিটাল অ্যাভাটারের মতো ক্ষেত্রে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চীনে সুপার এআইয়ের এই দৌড় আগামী দিনের ডিজিটাল জীবনের রূপরেখা ঠিক করে দেবে।
সূত্র: সিএমজি