বর্তমান সময়ের কিশোর-কিশোরীদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে সন্তান এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিশাল এক মানসিক ও তথ্যগত দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে, সন্তানেরা এআইকে দেখছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার হিসেবে। অন্যদিকে অনেক অভিভাবক জানেন না তাঁদের ঘরের ভেতরে ডিজিটাল স্ক্রিনে কী ঘটে চলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানেরা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। কিন্তু অভিভাবকেরা সে সম্পর্কে অনেকটাই অন্ধকারে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, কিশোর-কিশোরীরা এখন শুধু কাজের জন্য নয়, বরং মনের কথা বলতেও এআইয়ের ওপর নির্ভর করছে। মানসিক সহায়তার জন্য এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পার্থক্য দেখা গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, কিশোর-কিশোরীরা এআইয়ের কাছে মানসিক পরামর্শ চায়। যদিও প্রায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের এই ‘ইমোশনাল সাপোর্ট’ নেওয়ার বিষয়টি একদম পছন্দ করেন না। তবু বাস্তব চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ কিশোর-কিশোরী এখন চ্যাটবটের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট থেকে শুরু করে গণিতের সমাধান—সর্বত্র এআইয়ের পদচারণ। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী গবেষণার কাজে এআই ব্যবহার করে। এমনকি প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন শিক্ষার্থী তাদের স্কুলের প্রায় সব কাজ সেরে নিচ্ছে এর মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা নিজে জালিয়াতির কথা স্বীকার না করলেও, অনেক সহপাঠী পড়ার কাজে নিয়মিত এআই ব্যবহার করে পরীক্ষায় বা হোমওয়ার্কে ফাঁকি দিচ্ছে। পড়াশোনার বাইরেও প্রায় অনেক শিক্ষার্থী শুধু নিছক বিনোদনের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে দুই প্রজন্মের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। অভিভাবক স্কুলের কাজে এআই ব্যবহারকে ‘অনৈতিক’ ও ‘শাস্তিযোগ্য’ মনে করেন। সেখানে ঠিক শিক্ষার্থী একে দেখছে ‘উদ্ভাবনী’ এবং ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচকতা অনেক বেশি। শিক্ষার্থীরা মনে করে, এআই তাদের ভবিষ্যতে ভালো প্রভাব ফেলবে। এআইকে শুধু একটি যান্ত্রিক টুল কিংবা রোবট হিসেবে চিনতে শেখানোই এখন সময়ের দাবি। আতঙ্কিত না হয়ে খাওয়ার টেবিলে সন্তানদের সঙ্গে এআই নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার চেষ্টা করুন। এটিই হতে পারে এই ডিজিটাল ব্যবধান ঘোচানোর প্রথম পদক্ষেপ। মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক হিসেবে এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: বিবিসি