সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে পরশু ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১-০ গোলের জয়ে নায়ক ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বদলি নেমে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন তিনি। দীর্ঘ চার বছর জাতীয় দলের জার্সিতে গোল না পাওয়া, বারবার দল থেকে বাদ পড়া এবং নানা অপমানজনক কথার ধকল পেরিয়ে এই গোলটি তাঁর ক্যারিয়ারে এনে দিয়েছে এক নতুন মোড়। সেসব নিয়েই কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ
প্রশ্ন: চার বছর পর জাতীয় দলের হয়ে গোল পেলেন এবং আপনার গোলেই বাংলাদেশ ভুটানকে হারাল। অনুভূতিটা কেমন?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: গোল করার পর তো অবশ্যই খুব ভালো লাগছে। চার বছর আগে জাতীয় দলে শেষ গোল করেছিলাম, কিন্তু ওই ম্যাচের পর তো আসলে সেভাবে আর খেলার সুযোগ পাইনি। তাই এই গোল ও জয় আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ।
প্রশ্ন: জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকা এবং সেই কঠিন সময়টার মানসিক লড়াই কেমন ছিল?
ইব্রাহিম: সময়টা সত্যিই খুব কঠিন ছিল। এর মাঝখানে অনেক কিছু ঘটেছে—ক্লাব পরিবর্তন করতে হয়েছে, কয়েকটা ক্লাব ঘুরে সব সময় ভালো খেলার চেষ্টা করেছি, জাতীয় দলের জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু সানমারিনো সফর ও আসিয়ান কাপের স্কোয়াডে থেকেও শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েছি। আপনারা জানেন এখন আমাদের জাতীয় দলে কতটা প্রতিযোগিতা। অনেক প্রবাসী ফুটবলার এসেছে। এসবের মধ্যে বাদ পড়ার পরও আমি একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। মানসিকভাবে এই সময়টা খুব কষ্টের ছিল। মানুষ নানা কথা বলত, অপমানজনক কথাবার্তা শুনতাম—কথা উঠত আমার ক্যারিয়ার নাকি শেষ! মাঠে নামার সময় এসব কথাই মাথায় ঘুরছিল। তবে আমার ভেতরে একটা জেদ ছিল যে, আমাকে খেলতেই হবে, আরও ভালো খেলতে হবে এবং গোল করে প্রমাণ দিতে হবে আমি শেষ হয়ে যাইনি। সেই আবেগ আর কষ্টের জায়গা থেকেই গোল করার পর কান্না চেপে রাখতে পারিনি।
প্রশ্ন: প্রথমার্ধে বাংলাদেশ গোল পাচ্ছিল না। বদলি হিসেবে নামার পর কোচ কী নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং গোলের মুহূর্তটি কীভাবে তৈরি হলো?
ইব্রাহিম: প্রথমার্ধে ডাগআউটে থাকার সময়ও আমার মনে হয়েছিল সুযোগ পেলে সেটা কাজে লাগাতে হবে। তা ছাড়া সতীর্থদের ওপরও ভরসা ছিল, কারণ, একা তো আর গোল করা সম্ভব নয়। কোচ আমাকে নামানোর সময় নম্বর টেন (১০) পজিশনে খেলতে বলেন। আমি নামার পর শমিতকে স্ট্রাইকার বানিয়ে ১০ নম্বর পজিশনে যাই। কোচ শুধু বলেছিলেন সামনে খেলতে আর ডি-বক্সের আশপাশে বল পেলেই শট নিতে। শমিতের হেড থেকে বক্সে বলটা পাওয়ার পর আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে, শট নিলে গোল হবে। কোচ যেভাবে বলেছিলেন, আমি ঠিক সেটাই মাঠে করার চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন: ফর্টিস এফসিকে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে তোলা ও জাতীয় দলে গোল—সব মিলিয়ে এটি কি আপনার জন্য একটি নতুন শুরু?
ইব্রাহিম: হ্যাঁ, অবশ্যই এটা এক নতুন শুরুর মতো। কারণ, অনেক দিন ধরেই আমি এই সুযোগটার অপেক্ষায় ছিলাম। ফর্টিস এফসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল কঠোর পরিশ্রম করে সাফের স্কোয়াডে থাকা এবং সুযোগ পেলে গোল করা। আমার ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্স দেখে কোচ আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য এখন সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই টার্গেট নিয়েই সামনে এগোচ্ছি।
প্রশ্ন: প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে সাফের সূচনা হলো। দলগতভাবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
ইব্রাহিম: যারা আজ খেলেছে, তারা সবাই ভালো খেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। তবে আমাদের দলে ফারহান আলী ওয়াহিদ ও হামজা চৌধুরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় এখনো যুক্ত হতে বাকি। তারা চলে এলে আল্লাহর রহমতে আমাদের দলটি আরও অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।