সাক্ষাৎকার

‘এই দল সেরা ছয়ের মধ্যে থাকবে’

এক দশক পর বাংলাদেশে ফিরে প্রথম কয়েক দিনের অনুশীলনেই পিটার গেরহার্ডের চোখে পড়ে কিছু পরিচিত দৃশ্য, আবার কিছু বদলে যাওয়া ছবিও। বয়স ৭৮, শরীরও আগের মতো সায় দিচ্ছে না। তবু মাঠে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের ভুল ধরিয়ে দিতে তাঁর কণ্ঠে সেই পুরোনো দৃঢ়তা। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ।

প্রশ্ন: দল নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

পিটার গেরহার্ড: আমাদের অনেক কাজ বাকি। সত্যি বলতে, আমি কিছুটা অবাকই হয়েছি। ছেলেরা মাঠে দারুণ কিছু মুভমেন্ট দেখিয়েছে। অনুশীলনে যে কৌশলগুলো নিয়ে কথা হয়েছিল, সেগুলো তারা বাস্তবায়ন করেছে। দল সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এই দলের ছেলেদের মধ্যে অনেক প্রতিভা রয়েছে এবং তারা খুব দ্রুত নির্দেশনা ধরে নিতে পারে। তবে কিছু জায়গায় এখনো ভুলত্রুটি রয়েছে, কাজ করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ভালো করা। বর্তমানে আমরা যেখানে আছি, তা নিয়ে খুশি। তবে আমি কখনোই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হই না।

প্রশ্ন: খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

গেরহার্ড: কীভাবে মূল্যায়ন করছি, তা আমরা যেভাবে কাজ করছি, তার ওপর নির্ভর করছে। এটি একটি পরিকল্পনা। আপনি যখন অনুশীলন করাবেন, একটি পরিকল্পনা থাকতে হবে এবং দেখতে হবে, কখন তারা ক্লান্ত হচ্ছে আর কখন হচ্ছে না। তারা কতটা উন্নতি করছে। আপনি যত বেশি কাজ করবেন, তারা তত বেশি শারীরিক ফিটনেস পাবে। তবে আমাদের সময় আছে। তারা যথেষ্ট ফিট হয়ে উঠবে।

প্রশ্ন: বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় দেরিতে যোগ দিয়েছেন ক্যাম্পে। তাঁদের কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

গেরহার্ড: দক্ষতা এবং খেলার বিষয়ে তারা নিজেদের জানাশোনা দেখাতে পেরেছে। আমাদের এভাবেই সেটা পরিমাপ করতে হবে। সমস্যাটি অতীতে ছিল—এখন কেমন জানি না। শুধু বলতে পারি, আমি কীভাবে দল নির্বাচন করি। পজিশন অনুযায়ী নির্বাচন করি, নাম দেখে বা ক্লাব দেখে নয়। আমার কাছে ক্লাব হলো বাংলাদেশ। তাই কোন ক্লাব বা কে কাকে সমর্থন করছে, তা নিয়ে ভাবি না। আমার খেলোয়াড়দের দিকে তাকাই, কতজন দরকার তা দেখি—যেমন তিনজন ডিপ ডিফেন্ডার দরকার, মিডফিল্ডে ধরুন চারজন দরকার, তিনজন ব্যাক দরকার, চারজন ফরোয়ার্ড দরকার। এভাবেই দেখি, নাম খুঁজি না। সেই মুহূর্তে এমন হতে পারে যে অন্যরা যাকে যথেষ্ট ভালো বলছে, সে দলে নেই, অথবা ওই পজিশনে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হয়ে গেছে। খুবই সাধারণ বিষয়।

প্রশ্ন: গত এশিয়া কাপের মূল পর্বে সরাসরি খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। এএইচএফ কাপেও পঞ্চম হয়েছে। আগের অবস্থানে দলকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?

গেরহার্ড: ১০ বছর আগে যখন বাংলাদেশ ছেড়েছিলাম, আপনার যদি মনে থাকে, আমরা হংকংয়ে সেকেন্ড লিগে জিতছিলাম। বিগ সিক্সের পেছনে আমি এটাকে সেকেন্ড লিগ বলি এবং আমরা ৪-৫ গোলের ব্যবধানে সব দলকে হারিয়েছিলাম। স্পষ্টভাবে প্রথম ছিলাম। আর এখন দেখছেন, আমরা কোথায় আছি। আপনি জিজ্ঞেস করছেন, আমি কী ভাবছি। জানি, তাদের নিয়ে কী করতে পারি। আমি সেটা করব।

প্রশ্ন: গত তিন-চার বছর ঘরোয়া লিগ ছিল না, খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধাও সীমিত। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবে কোথা থেকে?

গেরহার্ড: ঘরোয়া লিগ কেন হচ্ছে না বা পেছনের কারণ কী, সে বিষয়ে মন্তব্য করা আমার কাজ নয়। এটি এখতিয়ারের বাইরে।

প্রশ্ন: জার্মানি সফরে ৩০ দিনে ১৬টি ম্যাচ খেলার কথা শোনা যাচ্ছে। ঘন ঘন ম্যাচে খেলোয়াড়েরা ক্লান্ত হয়ে পড়বেন না তো?

গেরহার্ড: ম্যাচ হলো আমার কাছে অনুশীলনের মতো। এটি অনুশীলনেরই সময়। আমরা দিনে দু-তিনবার অনুশীলন করছি, শেষ পর্যন্ত তা চালিয়ে যাব। আর যদি সঠিক উপায়ে তা করি, তারা ক্লান্ত হবে না, খুব ফিট থাকবে। আমরা যেভাবে চাই, সেভাবেই চলবে। ১৬টি ম্যাচ বেশি বলার কোনো কারণ নেই।

প্রশ্ন: জার্মানিতে প্রতিপক্ষ হিসেবে কোন দলগুলোর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ?

গেরহার্ড: সেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে ম্যাচ রয়েছে এবং শেষ দিকে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন ক্লাবের মুখোমুখি হব। ক্লাব পর্যায়ে হলেও এসব দলে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়েরা খেলে। আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক জাতীয় দলের খেলোয়াড় ইউরোপীয় লিগে খেলে। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে সোনা জেতার আগে আর্জেন্টিনা দল টানা ৪ বছর জার্মানিতে প্রস্তুতি নিয়েছিল।

প্রশ্ন: এশিয়ান গেমসে আপনার মূল লক্ষ্য কী?

গেরহার্ড: সবাই আমার কাছে অলৌকিক কিছুর আশা করছে! আমাকে প্রথম ছয়ের মধ্যে থাকার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। চীনসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, তারা সবাই উঁচুমানের হকি খেলছে। তবে আমি নিশ্চিত, এই দল প্রথম ছয়ের মধ্যেই থাকবে। দল নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।

‘এমনটা যেন কারও সঙ্গে না হয়’

‘আমাদের খেলার ধরনে আমরাই সেরা’

‘অস্ট্রেলিয়ায় আমরা জিততে পারব না, বিষয়টা তেমন না’

‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর নিজের প্রতি প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে’

জন্মদিনে নিজের জন্য কী চাইবেন মেসি

ফ্রান্সই হট ফেবারিট

‘ব্রাজিলকে অহংকার সরিয়ে রেখে খেলতে হবে’

‘দলকে আমার এখনো অনেক কিছুই দেওয়ার আছে’

টেস্ট বিশেষজ্ঞ তকমা চান না অমিত

‘১৫ বছর খেলেও বাফুফের কাছ থেকে সাপোর্ট পাইনি’