ইউরোপের দল হলেও ফুটবলে সেই আধিপত্য নেই সান মারিনোর। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে অবস্থান করছে দলটি; ২১১ নম্বরে। সেদিক থেকে বেশ এগিয়েই আছে বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ার দল আছে ১৮১ নম্বরে। তবে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে র্যাঙ্কিংয়ের মাপকাঠি সামনে না এনে নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে চায় বাংলাদেশ।
সান মারিনোর বিপক্ষে আগামীকাল রাত ১১টায় শুরু হতে যাওয়া প্রীতি ম্যাচটা এক অর্থে ঐতিহাসিক বাংলাদেশের জন্য। এটাই হতে যাচ্ছে ইউরোপের মাঠে থমাস ডুলির দলের প্রথম ম্যাচ। ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে যাওয়া ম্যাচটাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতির যেন কমতি নেই।
নতুন কোচ ডুলির অধীনে ঢাকায় অনুশীলন করে ইতালি হয়ে সান মারিনো পৌঁছেছে বাংলাদেশ। শক্তির বিচারে সান মারিনোর চেয়ে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের ভাবনাটা কন্ডিশন নিয়ে। তবে বিষয়টা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতে হচ্ছে না অতিথিদের। বেশকিছু অনুশীলন সেশন করে মানিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলাররা—এমনটাই দাবি সফরকারী দলের সহকারী কোচ হাসান আল মামুনের। এবার অপেক্ষা দারুণ একটি লড়াইয়ের।
মামুন বলেন, ‘ইউরোপে আসছি এবং ইউরোপের একটা দলের সঙ্গে খেলছি, যেটা প্রথমবার। এটা ঐতিহাসিক এবং আমরা জানি যে সান মারিনোর অবস্থান (র্যাঙ্কিং) আসলে নিচের দিকে। কিন্তু দল হিসেবে, ইউরোপীয় দল হিসেবে যদি বিবেচনা করি, তারা কাদের সঙ্গে খেলে—এটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ম্যাচটা অবশ্যই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। এখানে অবস্থান (র্যাঙ্কিং) কোনো ব্যাপারই না। দিনশেষে যারা ভালো খেলবে, পরিকল্পনা যারা বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই এই ম্যাচে এগিয়ে যাবে।’
প্রতিপক্ষকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। এই প্রসঙ্গে মামুন বলেন, ‘সান মারিনো আমাদের চেয়ে নিচের অবস্থানে থাকলেও আমরা তাদের একটি শক্তিশালী দল হিসেবেই বিবেচনা করছি। আমরা কোনোভাবেই তাদের অবস্থান (র্যাঙ্কিং) দিয়ে মূল্যায়ন করছি না, যেটা কোচও বলেছেন। আমরা খেলোয়াড়রা এবং কোচিং স্টাফ সবাই জানি যে এখানে আমাদের জন্য একটি কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।’
নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ বলেন, ‘ডুলির অধীনে আমরা ঢাকায় যে কাজ শুরু করেছি, আজ পর্যন্ত মিলিয়ে অনেকগুলো অনুশীলন সেশন হয়ে গেছে। তাই তার যে ধারণা, তার যে খেলার পরিকল্পনা, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আমরা আছি। এক কোচ থেকে আরেক কোচে আসা, এক ধরনের খেলার ধরন থেকে আরেক ধরনের খেলার ধরনে যাওয়া—এটা একটা পরিবর্তনের সময়। কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। তিনি সহজ ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন, বলের দখল রাখতে পছন্দ করেন। পাশাপাশি নিখুঁততা বজায় রাখা এবং সবাই মিলে চাপ সৃষ্টি করা—একসঙ্গে চাপ দিতে হলে সবাই একসঙ্গে চাপ দেবে। এই বিষয়গুলো আসলে যেকোনো কোচ, যেকোনো খেলার ধরনেই আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে। এবং আমাদের খেলোয়াড়রা সেটা বেশ ভালোভাবেই করেছে।’
একসঙ্গে জ্বলে উঠতে পারলে সান মারিনোর বিপক্ষে দারুণ কিছুই হবে বলে মনে করেন মামুন, ‘কথা হচ্ছে, দিনশেষে আমরা মাঠে গিয়ে নিজেদের কীভাবে মেলে ধরতে পারি। তবে খেলার ধরন এবং অন্যান্য বিষয় আমাদের খেলোয়াড়রা প্রায় পুরোপুরি বুঝে ফেলেছে। আশা করছি, আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মাঠে এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারা। কারণ এটাই প্রথম ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’