আর্জেন্টিনা কি রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়ট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন।
শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসরের কোচ ও কয়েকজন ফুটবলার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, শিরোপাধারীদের সুবিধা দিতেই এবারের বিশ্বকাপ সাজানো হয়েছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। অনেকের মতে, ওই ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল না।
নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজ ভিএআরের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দলের তালিকার দুই নম্বরে আছে আর্জেন্টিনা। শীর্ষে রয়েছে এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক মেক্সিকো।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেষ ষোলো পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তও যায়নি। একই চিত্র দেখা গেছে মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও।
প্রতি ১০০টি ফাউলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত পাঁচ দল হলো—মেক্সিকো (দলের পক্ষে ৭.৮, বিপক্ষে ০.০), আর্জেন্টিনা (৬.৭, ০.০), পর্তুগাল (৪.৬, ০.০), নিউজিল্যান্ড (৪.২, ০.০) এবং সৌদি আরব (৩.৬, ০.০)।
অন্যদিকে, ভিএআরের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার ওপর। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের পক্ষে একটি ভিএআর সিদ্ধান্তও পায়নি। তাদের বিপক্ষে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হার প্রতি ১০০ ফাউলে ৬.৫।
এই তালিকায় এরপর রয়েছে ইরান (দলের পক্ষে ০.০, বিপক্ষে ৫.৪), কাতার (০.০, ৫.১), জার্মানি (০.০, ৪.০) এবং ইংল্যান্ড (০.০, ৩.৫)।