ইংল্যান্ড-নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের এখনো এক দিন সময় বাকি। অনুশীলনের পাশাপাশি অবসরে তাই বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচেও নজর রাখছে নরওয়ে ফুটবল দল। কোন দল কী কৌশলে খেলে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে, সেগুলো তো খেয়াল রাখতে হবে। তবে গত রাতে ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালের একটি ঘটনা নজর কেড়েছে ফুটবল ভক্ত-সমর্থকদের। আলোচিত এই ঘটনা নিয়ে পোস্ট দিয়েও ডিলিট করে দিয়েছেন আর্লিং হালান্ড।
বোস্টনে গত রাতে অনুষ্ঠিত ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালের আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ মিনিটে। মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই নিজেদের বক্সে এমবাপ্পেকে ফেলে দেন। এমবাপ্পে পেনাল্টি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু রেফারি ফাকুন্দো তেয়ো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তা নিয়েও ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ডকে পেনাল্টি নিতে দেন ৩ মিনিট দেরিতে। তখন নিজের স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্টে হালান্ড পোস্ট করেন, ‘পেনাল্টির জন্য ৫ মিনিট অপেক্ষা করা আসলেই অনেক দীর্ঘ সময়।’
হালান্ড এই পোস্ট দিলে দ্রুত তা ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে এবারের বিশ্বকাপে ভিএআর নানা কারণে অনেক সমালোচিত হয়েছে। নরওয়ের তারকা ফুটবলার পোস্টটা দেওয়ার পর ডিলিট করলেও সেটার স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছেন নেটিজেনরা।
২৮ মিনিটে এমবাপ্পে পেনাল্টি নিলেও সেটা মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর হাতে তুলে দেন। ম্যাচ শেষে পেনাল্টি মিসের ব্যাখ্যায় ভিএআরের সিদ্ধান্তহীনতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এটা নিশ্চিত যে পেনাল্টি নেওয়ার সময় কীভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, তা নিয়ে অনেক রকম পরিস্থিতির কথা ভেবেছি। তবে এই ধরনের পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।’
এমবাপ্পের পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিতে দেরি হওয়ায় ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও। মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের পর দেশম বলেন, ‘আমি হালান্ডের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। আমার বিশ্বাস প্রথমে একটি ভিএআর পর্যালোচনা হয়েছিল। তারপর দ্বিতীয়বারও পর্যালোচনা করা হয়। তাতে প্রায় ২ মিনিট সময় নিয়েছিল। ঠিক কী ঘটেছিল, আমি নিশ্চিত নই।এতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। কিলিয়ান শট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না। তবে পরিস্থিতিটি মোটেও সহজ ছিল না।’
২৮ মিনিটে পেনাল্টি পেলেও এমবাপ্পে গোল আদায় করে নিতে পারেননি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ পুরোটা নিজের করে নিলেন ফরাসি অধিনায়ক। ৬০ মিনিটে নিজে গোল করেছেন। এরপর ৬৬ মিনিটে তিনি গোল করিয়েছেন উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে।
এমবাপ্পে ৮ গোল করে চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে। লিওনেল মেসিও ৮ গোল করেছেন। কিন্তু মেসির অ্যাসিস্ট একটি। এমবাপ্পে করেছেন ৩ অ্যাসিস্ট। উসমান দেম্বেলে করেছেন ৫ গোল। এমনকি তাঁর একটি হ্যাটট্রিকও রয়েছে। ফ্রান্সের ১৬ গোলের ১১ গোল তো এমবাপ্পে-দেম্বেলে মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্মটা তাঁরা ধরে রেখেছেন বিশ্বকাপেও।