ক্লাব ফুটবলে গোলের বন্যা বইয়ে দিতে ওস্তাদ আর্লিং হালান্ড। কেন যে তাঁকে ‘গোলমেশিন’ বলা হয়, সেটা ম্যানচেস্টার সিটিতে তাঁর পারফরম্যান্স দেখলেই বুঝতে পারবেন। ভেঙেচুরে দিচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। তবে আজ রাতে হালান্ডকে আটকাতে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশেষ এক অস্ত্র প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছেন।
ক্লাব ফুটবলের ফর্মটা হালান্ড টেনে এনেছেন এবারের বিশ্বকাপেও। ৩ ম্যাচ খেলে করেছেন ৫ গোল। প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষকেরা তাঁর গোল বারবার আটকে দিলেও কতক্ষণই-বা তাঁকে থামিয়ে রাখা যায়। নরওয়ের গোলমেশিনকে থামাতে গাব্রিয়েল মাগালাইসের ওপর ভরসা রাখছেন আনচেলত্তি। নিউইয়র্কে আজ বাংলাদেশ সময় রাতে হতে যাওয়া শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘হালান্ডকে সবাই চেনে। আমার ডিফেন্ডারকে (মাগালাইস) আলাদা করে বোঝানোর দরকার নেই যে হালান্ড কীভাবে খেলে। সে (মাগালাইস) হালান্ডকে আমার চেয়ে ভালো চেনে। কারণ, তারা অনেকবার একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে।’
নেইমার এবারের বিশ্বকাপে খেলতে পেরেছেন ১৫ মিনিট। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচটি দিয়ে ৯৮১ দিন পর মাঠে নেমেছিলেন। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ জয় দিয়ে রাঙানোর পরও শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে তাঁকে মাঠেই নামাননি আনচেলত্তি। আরেক ফরোয়ার্ড ভিনি করেছেন চার গোল। অ্যাসিস্ট করেছেন এক গোলে।
নরওয়ে ম্যাচে ভিনি-নেইমারকে একসঙ্গে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন আনচেলত্তি। একই সঙ্গে ব্রাজিলের কৌশলগত জায়গাতেও উন্নতি করতে হবে বলে মনে করেন ব্রাজিল কোচ। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা এখনো সেট-পিসের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। হয়তো আমাদের কৌশলগত দিকটা আরও উন্নত করতে হবে। আমরা অনুশীলনে এগুলো নিয়ে ভালোভাবেই কাজ করছি এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সেট-পিস থেকে গোল করতে পারব। নেইমার ও ভিনি একসঙ্গে খেলতে পারে। আমার বিশ্বাস, তারা একসঙ্গেই খেলবে।’
শেষ ষোলোতে পাকেতাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। রাফিনিয়া খেললেও তাঁর শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম। সে ক্ষেত্রে নেইমারের আজ নরওয়ের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা বেশি। তবে পুরোটা খেলতে পারবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে।
হালান্ড-মাগালাইস দুজনেই খেলেন প্রিমিয়ার লিগে। মাগালাইসের ক্লাব বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। এদিকে আনচেলত্তি গত বছর ব্রাজিলের কোচ হয়েছেন। মাগালাইস যে হালান্ডকে অনেক দিন ধরে চেনেন, ব্রাজিল কোচ তাহলে ঠিকই বলেছেন। আর হালান্ড যেভাবে রক্ষণদুর্গ ভেদ করে বুলেট গতিতে শট করেন, তা ঠেকানো গোলরক্ষকদের জন্য একরকম অসম্ভব হয়ে যায়।
আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তাঁরা পুরো নরওয়ে দল নিয়েই ভাবছেন। একই সঙ্গে হালান্ডকে ‘বিপজ্জনক স্ট্রাইকার’ও মানছেন ব্রাজিল কোচ। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা পুরো ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগী। যার মধ্যে হালান্ডের বৈশিষ্ট্যগুলোও দেখছি। কারণ, সে সত্যিই খুব বিপজ্জনক স্ট্রাইকার।’
২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২—এই পাঁচ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরেছে ব্রাজিল। হেক্সা মিশনের লক্ষ্যে নামা ব্রাজিলের এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলবে আরেক ইউরোপীয় দল নরওয়ে। এই নরওয়েকে এখনো হারাতে পারেনি ব্রাজিল। আজ ইতিহাস বদলে দিতে পারে কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে।