যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন যেন কিছুতেই কাটছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের মাঠের বাইরের দীর্ঘ বৈরিতা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এমনিতেই জলঘোলা হচ্ছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আলোচনায় এবার আরেক মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক। কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এখানে জড়িয়ে গেছেন ইরাক ফুটবল দলের তারকা স্ট্রাইকার।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর শিকাগো বিমানবন্দরে ওহায়ো ইমিগ্রেশন পুলিশের চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন ইরাকের গোলমেশিন খ্যাত আয়মান হুসাইন। নিজ দেশের ক্লাব আল-কার্মার হয়ে খেলা এই গোলমেশিনকে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জেরা করা হয়েছে। এই আয়মানের গোলেই দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে ইরাক। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখতেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো তাকে।
ইরাকি গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাদের অনলাইন সংস্করণে শিরোনাম করেছে, ‘যেন তিনি কোনো সন্ত্রাসী’।
পরবর্তী সময়ে জানা যায়, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন প্রশাসনের একটি মারাত্মক ভুলের কারণে। আয়মান হুসাইনের নামের সঙ্গে মিল থাকা অন্য এক সন্দেহভাজন নাগরিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। নাম বিভ্রাটের কারণে ইরাকি এই ফরোয়ার্ডকে ভুল করে আটকে ফেলা হয়। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও আইনি মারপ্যাঁচে তা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ সাত ঘণ্টার মানসিক ধকল ও অপেক্ষা শেষে অবশেষে মুক্তি পান এই ফুটবলার। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের আগমুহূর্তে দলের সেরা তারকার সঙ্গে এমন আচরণে ইরাক শিবিরে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
তবে মাঠের বাইরের এই বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের এই সিংহরা। এক বুক আশা আর স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে পা রাখা ইরাক দল অবশ্য সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দারুণ কিছুর আভাস দিচ্ছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট এবং ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক ড্র ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।
স্পেনের মতো পরাশক্তিকে রুখে দেওয়ার পর ইরাকের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ভেনিজুয়েলা। যদিও ভেনিজুয়েলা এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, তবে ইরাকি কোচ মনে করছেন নিজেদের শক্তিমত্তা ও কৌশলগত ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার জন্য এই ম্যাচটি তাদের জন্য দারুণ এক সুযোগ হিসেবে কাজ করবে। ৯ জুন প্রীতি ম্যাচে ভেনিজুয়েলার মুখোমুখি হবে তারা।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর ফুটবলের এই মহোৎসবে ফিরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায় ইরাক। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তাদের যাত্রাটা অবশ্য বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচেই তারা মাঠে নামবে শক্তিশালী নরওয়ের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্সের বিপক্ষে। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হবে।
বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভুলে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে ইরাক বিশ্বকে নতুন কোনো চমক দেখাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।