কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে আজ ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে হাইভোল্টেজ দ্বৈরথের দিকে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে মুখোমুখি হচ্ছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও আফ্রিকান পরাশক্তি আইভরি কোস্ট। উভয় দলের জন্যই এটি শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করার সুবর্ণ সুযোগ।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের জার্মানি। গত দুটি আসরে গ্রুপপর্ব পার হতে না পারা জার্মানির সামনে এবার এক ম্যাচ হাতে রেখেই পরের রাউন্ডে যাওয়ার উজ্জ্বল হাতছানি। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ইমেরসে ফায়ের আইভরি কোস্টও। আজ যে দল জিতবে, তাদের শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর ম্যাচটি ড্র হলে শেষ রাউন্ডের আগে গ্রুপের সমীকরণ বেশ জটিল রূপ ধারণ করবে।
জার্মানির এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তির নাম তাদের ভয়ংকর আক্রমণভাগ। প্রথম ম্যাচে ফ্লোরিয়ান ভাইর্টজ এবং জামাল মুসিয়ালাদের আক্রমণাত্মক গতি ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে কাজটা যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। সংবাদ সম্মেলনে এক ম্যাচ হাতে রেখেই পরের রাউন্ডে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য পরের রাউন্ডে যাওয়া এবং সবকিছু নিজেদের হাতেই আছে। আমরা একটা ভালো শুরু করেছি এবং আগের টুর্নামেন্টগুলো নিয়ে একদম ভাবছি না। দলের খেলোয়াড়েরাও অতীত নিয়ে পড়ে নেই; আমাদের সব মনোযোগ এখন পরের ধাপে, আর আমাদের জন্য সেই ধাপ হলো আইভরি কোস্ট।’ নয়্যার প্রতিপক্ষের দুর্দান্ত গতি এবং বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল নিয়ে সতীর্থদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন।
বিশেষ করে বুন্দেসলিগায় খেলা দুই তরুণ ইয়ান দিওমান্দে ও বাজুমানা তুরের গতি রুখতে রক্ষণভাগকে পুরো ৯০ মিনিট সজাগ থাকার তাগিদ দিয়েছেন নয়্যার। লাইপজিগের দিওমান্দে প্রথম ম্যাচেই ম্যাচসেরা হয়েছেন এবং হফেনহাইমের তুরে উইং ধরে আক্রমণ করতে ওস্তাদ। পজিশন হারানোর পর কীভাবে রক্ষণ সামলাতে হবে, তা নিয়ে নয়্যার সতীর্থদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘বল যখন আমাদের পায়ে থাকবে, তখন দলগত অবস্থান ঠিক রাখাটা ভীষণ জরুরি। আমাদের অসতর্ক ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা যখন আক্রমণ করছি, তখন পেছনের রক্ষণভাগ যেন পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে। ওদের সবার দারুণ গতি রয়েছে, বিশেষ করে ফরোয়ার্ডদের। তার মানে আমরা এক সেকেন্ডের জন্যও মনোযোগ হারাতে পারব না। আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং ট্রানজিশনের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।’
বিপরীতে তিনবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টের প্রধান শক্তি হলো তাদের জমাট রক্ষণ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। দলটির প্রাণভোমরা ও অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসি মাঝমাঠে জার্মানির খেলোয়াড়দের বোতলবন্দী করার জন্য নিজের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, বিশ্বকাপে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে তারা, তবে এর আগের একমাত্র প্রীতি ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল। টরন্টোর রাত ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে একদিকে থাকবে নাগেলসমানের ক্ষুরধার ইউরোপীয় কৌশল, আর অন্যদিকে থাকবে ফায়ের লড়াকু আফ্রিকান মানসিকতা।