স্কোরকার্ড দেখে অনেকের কাছেই ইকুয়েডর-কুরাসাও ম্যাচটা ম্যাড়মেড়ে মনে হতে পারে। কিন্তু অনেক ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হলেও সেই ম্যাচগুলো হয়ে ওঠে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বাংলাদেশ সময় ভোরে আজ কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ইকুয়েডর-কুরাসাও ম্যাচটা সেরকমই। কেউ না জিতলেও একজন জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। তিনি আর কেউ নন, কুরাসাও গোলরক্ষক এলয় রুম।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দফায় দফায় কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগে হানা দেয় ইকুয়েডর। কিন্তু নবাগত কুরাসাও দলের গোলরক্ষক রুম সব আলো কেড়ে নিলেন নিজের দিকে। গুণে গুণে ১৫ সেভ দিয়ে ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে অপ্টা জো আজ নিজেদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, ১৯৬৬ সাল থেকে হওয়া বিশ্বকাপে এক ম্যাচে রেকর্ড সেভ করেছেন কুরাসাওয়ের এই গোলরক্ষক। যে ম্যাচগুলো অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়নি, সেগুলোর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে অবশ্য বিশ্বকাপে এক ম্যাচে রেকর্ড সেভ করতে পারেননি রুম। বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৬ গোল বাঁচানোর রেকর্ডটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের। ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন হাওয়ার্ড। যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচটি গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। বেলজিয়াম ম্যাচটি জিতেছিল ২-১ গোলে। ৯৩ ও ১০৫ মিনিটে দুই বেলজিয়ান রোমেলু লুকাকু ও কেভিন ডি ব্রুইন গোল করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র গোল করেছিলেন হুলিয়ান গ্রিন।
ম্যাচের ৩ মিনিটে ইকুয়েডর ফরোয়ার্ড এনের ভ্যালেন্সিয়ার আক্রমণ ঠেকিয়ে রুম বুঝিয়ে দিলেন, মর্নিং শোজ দ্য ডে। পরবর্তীতে নবাগত দলটির রক্ষণদুর্গে ভ্যালেন্সিয়া, জন ইয়েবোয়াহ, মইসেস কাইসেদোরা বারবার আক্রমণ করলেও রুম দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেছেন। একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত হওয়ায় ইকুয়েডরের ফুটবলাররা ক্লান্ত হয়ে উল্টোপাল্টা শটও দিয়েছেন।
৬১ মিনিটে কুরাসাও ডিফেন্ডার শেরেল ফ্লোরানুস প্রথমে পাস দেন জুনিনিও বাকুনার কাছে। বাকুনা ব্যাকহিলে তা পৌঁছে দেন লিভানো কোমেনেনসিয়ার কাছে। যে কোমেনেনসিয়া জার্মানির বিপক্ষে কদিন আগে গোল করে কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলরক্ষক বনে গেলেন। কিন্তু আজ ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি।
কানসাসে আজ ম্যাচের শেষভাগে এসে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায় ছিল কুরাসাও। কারণ, নবাগত এই দলটির যে হারানোর কিছু নেই। জিতলে তো ‘বোনাস’। সেখানে ড্র করে ক্যারিবীয় এই দলটি নাম লিখিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ম্যাচ শেষে ইকুয়েডরের হতাশা আর কুরাসাওয়ের উল্লাস বলে দিয়েছে অনেক কিছুই।
কুরাসাও, ইকুয়েডর কেউই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়নি। দুই দলেরই পয়েন্ট ১। তবে গোল বেশি হজম করায় ‘ই’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার চারে কুরাসাও। তিনে অবস্থান করছে ইকুয়েডর। কারণ, গত ১৪ জুন জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছিল কুরাসাও। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানি ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে। তিনে থাকা আইভরি কোস্টের পয়েন্ট ৩।